নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকার আশা করছে আজ, মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে ফয়সালা হতে পারে ওবিসি সংক্রান্ত মামলাটির। আর তার সাতদিনের মধ্যেই স্নাতক স্তরে ভর্তির মেধা তালিকা প্রকাশ করে ভর্তি শুরু করে দেবে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভর্তি নিয়ে চরম উদ্বেগ কাজ করছে। আর ভর্তি প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে ওবিসি জটিলতার কারণেই। ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে প্রথম সেমেস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। আর পরীক্ষার আগে ন্যূনতম ৯০দিন পুরোদস্তুর পঠনপাঠন চালু রাখার নিয়মও রয়েছে। তাই এবার কোনও একটি রফা সূত্রে আসতেই হবে সরকার তথা উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে।
আজ, মঙ্গলবারই কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে স্নাতক স্তরে আবেদনের শেষদিন। তবে, আদালতে কী হয়, তা দেখেই এগতে চাইছে দপ্তর। আগেভাগে আবেদনের সময় বাড়াতে চাইছে না তারা। দপ্তর সূত্রের খবর, আদালত যেমনই বলবে, তার ভিত্তিতে সাতদিনের মধ্যেই মেধা তালিকা তারা প্রকাশ করতে পারবে। যদি, রায় বিপক্ষেও যায়, তাহলেও বিকল্প ব্যবস্থা করা রয়েছে, যা এক সপ্তাহের মধ্যেই কার্যকর করা যাবে। এই পরিস্থিতি নিয়ে অবশ্য অধ্যক্ষদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ বলছেন, আগস্টের ডেডলাইন এভাবে মেনে চলা যাবে না। সেশন শুরু করতে দেরি হলে গোটা শিক্ষাবর্ষই পিছিয়ে যাবে। অনেকেই ইতিমধ্যে ভিন রাজ্যের কলেজে বা এরাজ্যের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে গিয়েছেন। তবে, দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, এখনও বিশেষ কিছু দেরি হয়নি। আবেদন বেশি জমা পড়েছে। তাই আসন পূরণে বেশি সময় লাগবে না। প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষাও ৯০দিন ক্লাস করার গাইডলাইনও মেনে এগনো সম্ভব।
শুধু জেনারেল ডিগ্রি কোর্সে ভর্তিই নয়, ওবিসি সমস্যায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তিও থমকে। কারণ ফলই প্রকাশ করতে পারেনি জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজাম বোর্ড। এদিকে, বেসরকারি কলেজগুলি জয়েন্টের র্যাঙ্ক কার্ড ছাড়াই প্রভিশনাল অ্যাডমিশন বা শর্তাধীন ভর্তি নিয়ে ক্লাসও শুরু করে দিয়েছে। সরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আশঙ্কা, এর ফলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হারাবে তারা। কারণ যাঁরা ইতিমধ্যেই বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে গিয়েছেন, তাঁরা আর ফিরবেন না। অনেক বেশি পড়ুয়া এবার ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিয়েছেন বলে কলেজগুলির পর্যবেক্ষণ। শেষ মুহূর্তে র্যাঙ্কে ছাড় দিয়েই কম মেধার পড়ুয়া ভর্তি করতে বাধ্য থাকবে তারা। যদিও, জয়েন্ট বোর্ড ফল তৈরিই করে রেখেছে। আজ একটি ফয়সালা হলে আগামী কালও জরুরিকালীন ভিত্তিতে তারা ফল প্রকাশ করতে পারে। তবে, জেনারেল ডিগ্রি কোর্স হোক বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকারকেও একটি সামগ্রিক নির্দেশিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করতে হবে। তার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা দপ্তর বা জয়েন্ট বোর্ড পদক্ষেপ করতে পারবে।