সংবাদদাতা, কাঁথি: আগামী ৩০ এপ্রিল জগন্নাথধামের উদ্বোধন ঘিরে এখন থেকেই সাজ সাজ রব সৈকতশহর দীঘা ও আশপাশের এলাকায়। জগন্নাথধাম উদ্বোধন এবং তার পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ভিড় সামাল দেওয়া, নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে জেলা পুলিস। তারই অঙ্গ হিসেবে নির্মীয়মাণ জগন্নাথধামের পাশে সম্প্রতি জেলা পরিষদের গেস্টহাউসে পুলিস ক্যাম্প চালু করা হল। আপাতত দু’জন এএসআই ও ১১ জন কনস্টেবলকে সেখানে নিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত জগন্নাথধামের ভিতরে এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকছেন ওই পুলিসকর্মীরা। এর আগে গতবছর ডিসেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জগন্নাথধাম নির্মাণের কাজকর্ম পরিদর্শনে এসে পাশেই অবস্থিত ওই গেস্টহাউসে পুলিস ক্যাম্প চালু করার কথা বলে গিয়েছিলেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সর্বোপরি তাঁরা যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়েন, সেকথা মাথায় রেখে এই ক্যাম্প তৈরি হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো পুলিস ক্যাম্পটি চালু করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই মন্দির এলাকার নিরাপত্তা সহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে আসেন ডিজি রাজীব কুমারের নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ পুলিস আধিকারিকরা। তাঁরা সবকিছু ঘুরে দেখার পাশাপাশি পুলিস ক্যাম্প সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। তবে গেস্টহাউসটি এখনই জেলা পুলিসকে হস্তান্তর করা হয়নি। কবে হবে, সেই খবর পুলিস কর্তাদের কাছে নেই। জেলা পরিষদ ২০১৭ সালে গেস্টহাউসটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। যদিও তা এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই রয়েছে। আপাতত সেখানে পুলিস ক্যাম্প চালু হল। জগন্নাথধামের দরজা খুলে গেলে দীঘায় পুণ্যার্থী এবং পর্যটকের যে বড়সড় সমাবেশ ঘটবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সেই সময় দুর্ঘটনা এড়াতে ও যানচলাচলের গতি স্বাভাবিক রাখতে চাইছে পুলিস। তাই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিল উদ্বোধনের আগে ২৯ এপ্রিল মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হবে। ২৮ তারিখ থেকে দীঘা শহরে কোনও সাধারণ যানচলাচল করতে পারবে না। দীঘায় ঢোকার দু’তিন কিলোমিটার আগে গাড়ি রাখতে হবে। তবে আগত যানবাহন কোথায় পার্কিং করা হবে, সেই সময় দীঘায় যাত্রীবাহী বাস চলাচল করবে কিনা, সেব্যাপারে এখনও কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি পুলিস। মন্দির উদ্বোধনের সময় দীঘার সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থা, পার্কিং সহ সমস্ত বিষয় নিয়ে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, জগন্নাথধাম যাওয়ার মূল সড়কের উপর চাপ কমাতে এবং শহরের মধ্যে সুষ্ঠু যাতায়াতের স্বার্থে ছোট-বড় রাস্তা সংস্কারের কাজ করছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা (ডিএসডিএ)।



