Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকা ঢুকলেও বাড়ি তৈরিতে গড়িমসি ফেরত চেয়ে নোটিসের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

টাকা ঢুকলেও বাড়ি তৈরিতে গড়িমসি  ফেরত চেয়ে নোটিসের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অ্যাকাউন্টে আবাসের টাকা ঢোকার পরও অনেকে বাড়ি তৈরির কাজই শুরু করেননি—এমন উপভোক্তাদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে। তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। এবার আর সতর্ক নয়, সরাসরি টাকা ফেরৎ চেয়ে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার জেলাশাসক আয়েশা রাণি এ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কাজের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট নেন। সূত্রের খবর, চার হাজারেরও বেশি পরিবার টাকা পেয়েও এখনও বাড়ি তৈরিতে গড়িমসি করছে। ইতিমধ্যেই আধিকারিকরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অনেকেই বাড়ি তৈরি না করার পিছনে একাধিক অজুহাত দিচ্ছেন। কিন্তু, এবার যে আর কোনও অজুহাতই শোনা হবে না, তা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট। 

Advertisement

এদিন বৈঠকে যোগ দেওয়া এক অধিকারিক বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা অনেকেই খরচ করেছেন। বাড়ির ভিত তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাঁরা খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন। কিন্তু যাঁরা কাজই শুরু করেননি তাঁদেরকে আর টাকা দেওয়া হবে না। উল্টে, প্রথম কিস্তির টাকা তাঁদের দ্রুত ফেরাতে হবে।’  জেলাশাসক আয়েশা রাণি এ বলেন, ‘টাকা ফেরৎ নেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সবাইকে বাড়ি তৈরির জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু কিছু উপভোক্তা তা করছেন না। এই প্রকল্পের টাকা অন্য কাজে খরচ করা যাবে না।’ 
এদিকে উপভোক্তাদের দাবি, এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাড়ি তৈরি করতে সমস্যা হচ্ছে। ইমারতি সামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বালির দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রথম পর্যায়ে ৬০ হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এই টাকায় ভিত তৈরি করতেও সমস্যা হচ্ছে। আধিকারিকদের পাল্টা যুক্তি, সরকারের লক্ষ্য সবার মাথার উপর পাকা ছাদ দেওয়া। এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় ছোট বাড়ি করা যেতেই পারে। কীরকম বাড়ি বানাতে হবে, তার রূপরেখাও ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে। ইমারতি সামগ্রী উপভোক্তারা সরাসরি কিনতে পারবেন। কোনও সিন্ডিকেট জোরজুলুম করলে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও ‘হাউসিং ফর অল’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে অবশ্য বরাদ্দ বেশি। অনেক উপভোক্তা অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় বা তৃতীয় কিস্তির টাকা পেয়ে গিয়েছেন। সেই টাকা ঠিকমতো খরচ হচ্ছে কিনা, সেদিকে আধিকারিকরা নজর রাখছেন। টাকা পাওয়ার পর বাড়ি তৈরির কাজ সম্পুর্ণ না হলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই পদক্ষেপ ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের ক্ষেত্রেও নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করার জন্য অনেকের জমি ছিল না। জেলাপ্রশাসন পাট্টা দিয়ে বাড়ির তৈরির টাকা অ্যাকাউন্টে দিয়েছে। তারপরও অনেকে কাজ না করায় আধিকারিকরা ক্ষুব্ধ। জেলা প্রশাসনের আর এক আধিকারিক বলেন,‘ মার্চ মাস শেষ হওয়ার পরও কেউ বাড়ি তৈরির কাজ শুরু  না করলে তাঁদের আর সময় দেওয়া হবে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ