Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেশপুরে দেদার নিধন গাছের, ২ মন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ করল প্রশাসন

কেশপুরে দেদার নিধন গাছের, ২ মন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ করল প্রশাসন
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কেশপুর: গ্রামের রাস্তার দু’ পাশে সারি দিয়ে ছিল গাছ। তীব্র গরমে তার নীচে জিরিয়ে নিত মানুষ। কিন্তু রাতারাতি সেই গাছ কেটে সাফ। কুড়ুলের তীব্র শব্দে ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের। গাছ কাটার দৃশ্য দেখে স্বজন হারানোর শোক গ্রাস করেছে তাঁদের। ছবিটা কেশপুর ব্লকের সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের। গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মন্ত্রী শিউলি সাহার নির্দেশে গাছ কাটা বন্ধ করেছে প্রশাসন ও বনদপ্তর। শিউলি সাহার পাশে দাঁড়িয়েছেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। গাছ নিধন বন্ধ হওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে সরষাখোলা পঞ্চায়েতের প্রধান মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান গাছ কাটার অনুমতি ছিল বলেই জানিয়েছেন। কিন্তু গাছ কাটার অনুমতি কীভাবে পেলেন ওই পঞ্চায়েত প্রধান, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement

এদিন সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, গাছ কাটা হয়েছে নিয়ম মেনেই। রাস্তার কাজ হবে বলে গাছ কাটার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। রাস্তার ধারে যাঁদের জমি আছে, তাঁরাও গাছ বিক্রির ভাগ চেয়েছিল। দিইনি বলেই সমস্যা।
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, মন্ত্রী শিউলি সাহা বিষয়টি জানান। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্লক প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেশপুর ব্লকের একাধিক এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগ আগেও উঠেছে। তবে সরষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গাছ কাটার খবর গিয়ে পৌঁছয় রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিধায়ক শিউলি সাহার কানে। সেই সময় শিউলি সাহা বিধানসভার অধিবেশনে ছিলেন। অধিবেশন চলাকালীন কেশপুর এলাকায় গাছ কাটার তথ্য পাশে বসে থাকা বন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে জানান শিউলি দেবী। একইসঙ্গে তিনি ছবি ও ভিডিও তুলে ধরেন বনমন্ত্রীর সামনে। জানা গিয়েছে, এরপর রাজ্যের বনমন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। অপরদিকে, মন্ত্রী শিউলি সাহা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিককে বিষয়টি জানান। 
রফিকবাবুও ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এরপরেই ওই এলাকায় প্রশাসন ও বনদপ্তরের আধিকারিকরা পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।
এদিন মন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন, কোনও ভাবেই বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। আমার প্রশ্ন, কে পারমিশন দিল গাছ কাটার। কেনই বা গাছ কাটা হচ্ছিল। আরও বেশকিছু এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটাও আমাদের দেখতে হবে। বিষয়টি বনমন্ত্রীকে বলার পরেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। বীরবাহা বলেন, খবর জানার পরেই ব্যবস্থা নিতে বলেছি। নিয়ম মেনে গাছ কাটলেও প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতেও হবে। বেআইনি কাজ করলে কেউ ছাড় পাবে না। কেশপুরের বাসিন্দা অসীম মণ্ডল বলেন, গাছ কাটার সঙ্গে শাসকদলের অনেক নেতা জড়িত। তবে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ