নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রায় চারশো কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হল। এতে খুশি প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা। এই ঋণ পেয়ে উপকৃত হবেন জেলার প্রায় ৬৫হাজার মহিলা। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরের প্রদ্যোৎ স্মৃতি সদনে একটি অনুষ্ঠান হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি সহ জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক ও ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্তারা। এদিনের অনুষ্ঠানে গোষ্ঠীর মহিলারা উপস্থিতি ছিলেন।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, এদিন জেলার ৬ হাজার ৪৭৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে ঋণের টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ঋণের পরিমাণ ৩৭৬ কোটি টাকা। একইসঙ্গে ১৩২৯জন মহিলাকে ব্যক্তিগত ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেই ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৯কোটি টাকা। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারা ঋণ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। তাঁরা স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন। অর্থনীতি বদল হচ্ছে। তবে আরও বেশি মহিলাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে কাজ হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক(কৃষি) গোবিন্দ হালদার বলেন, মহিলারা ঋণের টাকা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন মেলায় গিয়ে মহিলারা তাঁদের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। জেলার ১০০শতাংশ মহিলাকেই স্বনির্ভর করে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।
মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে চায় রাজ্য সরকার। শহর এলাকা তো বটেই, গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে প্রশাসন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক থেকেও মহিলাদের আরও করে স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নানারকম প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন মহিলারা। সেইসব সামগ্রী বিভিন্ন মেলা, শহর এলাকার স্টল থেকে বিক্রি করে স্বনির্ভর হচ্ছেন মহিলারা। সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসছেন গ্রামের গৃহবধূরা। তাঁদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র ভিনরাজ্যেও যাচ্ছে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় ঋণ নিতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে,পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৭০হাজারের বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। তারমধ্যে গত আর্থিক বছরে প্রায় ৫৪হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী সরকারি নিয়ম মেনে ঋণ পেয়ে উপকৃত হয়েছে। গত অর্থবছরে জেলায় প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এবছর প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এদিন প্রায় চারশো কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু দাঁতন-১ ব্লকের ৩১২টি, ডেবরা ব্লকে ৫৩৬টি, গড়বেতা-১ ব্লকে ৩৩৯টি, কেশিয়াড়ি ব্লকে ৩৯৬টি, খড়্গপুর-১ ব্লকের ৫৬৩টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী উপকৃত হবে। জেলার ২১টি ব্লকের মহিলারাই ঋণ পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।