Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটে ব্যস্ত প্রশাসন, সুযোগে কুয়ে নদীর বাঁধ কেটে পাচার! বড়ঞার বাসিন্দাদের প্রতিবাদ

ভোটের কাজে প্রশাসনিক ব্যস্তরা চরমে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিনদুপুরে বাঁধের মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

ভোটে ব্যস্ত প্রশাসন, সুযোগে কুয়ে নদীর বাঁধ কেটে পাচার! বড়ঞার বাসিন্দাদের প্রতিবাদ
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: ভোটের কাজে প্রশাসনিক ব্যস্তরা চরমে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দিনদুপুরে বাঁধের মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। বুধবারের ওই ঘটনা বড়ঞা ব্লকের কুয়ে নদীর বৈদ্যনাথপুর গ্রামের কাছে মাঠ কলাইয়ের। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কেন্দ্র সরকারের ১১৬ এ  জাতীয় সড়কের কাজ চলছে। এদিন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন কুয়ে নদীর ওই জায়গায় বাঁধের মাটি কেটে তা পাচার করছিল। তবে কান্দি মহকুমা প্রশাসন ঘটনার কথা জানতে পেরে মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ওই এলাকায় ১১৬ এ জাতীয় সড়ক তৈরি হচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে রাস্তায় ভরাট করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতদিন রাস্তার প্রয়োজনীয় মাটি এলাকার কৃষি জমি থেকে তোলা হচ্ছিল। কিন্তু এদিন কুয়ে নদীর মাঠ কলাই নামের একটি নির্জন জায়গা থেকে আর্থ মুভার দিয়ে বাঁধের মাটি কেটে তা ট্রাক্টরে করে পাচার করা হচ্ছিল। সেখানে অন্তত ১০টি ট্রাক্টরে করে মাটি পাচার করা হচ্ছিল বলে দাবি।
এদিকে সকাল হতেই ওই মাঠে পৌঁছন স্থানীয় চাষিরা। তাঁরা প্রথমেই ঘটনার প্রতিবাদ করে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এমনকি মাটি মাফিয়াদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও শুরু হয়ে যায়। এরপর সেখানে আরও চাষি জড়ো হলে ঝামেলা প্রশাসন পর্যন্ত চলে যায়। বাসিন্দা পিয়ারুল শেখ বলেন, এতদিন ওরা জমির মাটি কেটে নিয়ে পালাচ্ছিল কিছু বলা হতো না। কিন্তু এবার বাঁধের মাটি কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে। তাতে বর্ষা এলেই এলাকায় অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা সমস্যায় পড়বেন। কাটা বাঁধ দিয়ে কুয়ে নদীর জল হুহু করে গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়বে। অপর বাসিন্দা হিরামুন মির্জা বলেন, আমরা ঠিকাদারের কাছে বাঁধ কাটার কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাই। তাতে আমাদের সঙ্গে তারা অভদ্র ব্যবহার করে। আমরা কোনোমতে বাঁধের মাটি কাটতে দেব না। বাসিন্দা বাক্কার শেখ বলেন, রাস্তা তৈরির জন্য এই বাঁধের মাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এই এলাকায় কয়েক হাজার কৃষি জমি রয়েছে। বাঁধ কেটে ফেললে বর্ষায় সমস্ত জমির ফসল ডুবে যাবে।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে কান্দি মহকুমা প্রশাসনের একটি টিম সেখানে পৌঁছয়। কান্দি মহকুমা শাসক প্রদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, গোটা বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণিত হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সেচ দপ্তরের কান্দি মহকুমা আধিকারিক সৌমিক কুণ্ডু বলেন, আমাদের একটি টিম গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আব্দুল আজিজকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ