নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: চূর্ণী নদীর পাড় ঘেঁষে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বিতর্ক সামনে আসতেই ওই নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমির মালিককে সমস্ত বৈধ নথিপত্র-সহ তলব করেছে প্রশাসন। নদীপাড়ে যে জমিতে নির্মাণ চলছে, তার প্রকৃত চরিত্র কী, নদীখাত, সরকারি খাস জমি না কি ব্যক্তিগত পাট্টা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
রানাঘাট-১ ব্লকের রামনগর-১ পঞ্চায়েতের বণিকপাড়া এলাকায় চূর্ণী নদীর গা ঘেঁষে মাটি ফেলে পাঁচিল তোলার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতার জোরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে দখলদারির চেষ্টা চলছে। আর সেটা করছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্যের স্বামী সুবীর ঘোষ। আর ঠিকাদার হিসেবে আবার নিয়োগ করেছেন স্থানীয় তৃণমূলের নেতা সৌভিক ঘোষকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ব্লক প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, মঙ্গলবারও বিতর্কিত জায়গায় নির্মাণ কাজ চলেছে বহাল তবিয়তে। যদিও ওই দিনই সেই ব্যক্তির কাছে কাজ বন্ধের নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি।
পরবর্তীতে বুধবার সেখানে কাজ বন্ধ ছিল। মহকুমা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পঞ্চায়েত রামনগর-১ এর পৃথকভাবে নোটিস জারি করে। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, আপাতত বিতর্কিত জমিতে কাজ বন্ধ রাখতে হবে। মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের তরফে নির্মাণ সহায়ক এবং সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে রানাঘাট-১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিককেও। নদীর নির্ধারিত সীমানা কোথায়, সেই সীমানা লঙ্ঘন করে আদৌ নির্মাণ হয়েছে কি না, তা মেপে দেখাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি, জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্ত দলিল, খতিয়ান, নকশা, মিউটেশন, পাট্টা বা রেজিস্ট্রি, প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যতদূর ইটের গাঁথুনি করা হয়েছে সেই নির্মাণ কাজের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে রানাঘাটের মহকুমা শাসক মহম্মদ সুবুর খান বলেন, আমরা কাজ বন্ধের নোটিস জারি করেছি। যিনি কাজ করাচ্ছিলেন সেই ব্যক্তিকে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না বা কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে তাও জানার চেষ্টা চলছে। যদি অনুমতি না থাকে তাহলে নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হবে। যে জমিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সেই জমির চরিত্র কি তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূমি সংস্কার আধিকারিকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কাজ বন্ধের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বণিকপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের বক্তব্য, ‘নদীর পাড় ভরাট হলে ভবিষ্যতে জলধারণ ক্ষমতা কমবে। বর্ষায় প্লাবনের আশঙ্কা বাড়বে। প্রশাসন যেন শুধু নির্দেশ দিয়ে থেমে না থেকে বাস্তবে বেআইনি অংশ ভেঙে নদীকে মুক্ত করে।’ যদিও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ কতখানি কার্যকরী হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে, চূর্ণী নদীর পাড়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ এখন প্রশাসনিক তদন্তের স্ক্যানারে।