নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার জেলার গ্রামগুলিকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম গড়তে তৎপর হল হুগলি জেলা প্রশাসন। সেই উদ্দেশ্যে প্রত্যেক ব্লকে দু’টি করে পঞ্চায়েতকে আদর্শ স্বচ্ছ গ্রাম পঞ্চায়েত হিসেবে ঘোষণা করতে কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আরামবাগ মহকুমার ব্লকগুলিকেও তার আওতায় আনা হয়েছে। পঞ্চায়েত পিছু কমিটি গড়ে সচেতনতার প্রচার চালাতে বলা হয়েছে। হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যের কাছে হুগলি জেলাকেই আদর্শ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগনো হচ্ছে। সেজন্য গ্রামস্তর থেকে নানা কাজ করা হচ্ছে। পরিছন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত গড়ে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। করণীয় কাজগুলি সম্বন্ধে ব্লকগুলিকে সম্প্রতি নির্দেশিক পাঠানো হয়েছে।
গোঘাট-১ বিডিও সম্রাট বাগচী বলেন, ভাদুর ও রঘুবাটি পঞ্চায়েতকে স্বচ্ছ গ্রাম পঞ্চায়েত গড়তে প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্য সহ সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষকে নিয়ে পরিচ্ছন্ন পঞ্চায়েত গড়ার কাজ করতে হবে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। খানাকুল-২ ব্লকের বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া বলেন, আদর্শ গ্রাম পঞ্চায়েত গড়ার কাজে প্রাথমিক পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে হুগলিকে খোলা জায়গায় শৌচমুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্য। এরপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্লাস্টিক সহ নানা পচনশীল বর্জ্য সংগ্রহ করে তা রি-সাইকেল করার কাজ শুরু হয়েছে। যদিও সব ব্লকে এখনও তা সফল হয়নি। যেসব পঞ্চায়েত এলাকায় পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেখানেই কাজ শুরু করার তোড়জোড় চলছে।
প্রশাসনের দাবি, আদর্শ গ্রাম পঞ্চায়েত গড়তে বাজার, গৃহস্থ্যের বর্জ্য সংগ্রহ করার কাজ অনেক জায়গাতেই শুরু হয়েছে। তারসঙ্গে জোর দেওয়া হবে বর্জ্য জলের সঠিক রূপায়ণ। ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার বাড়াতে গুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরজন্য স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচালয় নির্মাণে জোর দেওয়া হবে। তারসঙ্গে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের বিভিন্ন বাজার পরিছন্ন রাখতেও পরিকল্পনা নিতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আদর্শ পঞ্চায়েত গড়তে কৃষি, উদ্যান পালন সহ একাধিক দপ্তরকে যুক্ত করা হয়েছে। বর্জ্য থেকে উৎপাদিত সার বিক্রি সহ ব্যবহারে বাসিন্দাদের সঠিক দিশা দেখাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি কাজ করবে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আদর্শ গ্রাম পঞ্চায়েত গড়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হবে স্থানীয় বাসিবদাদের সচেতনতায়। এরজন্য একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বৈঠক, মাইকিংয়ের পাশাপাশি দেওয়াল চিত্র এঁকেও সচেতন করায় জোর দেওয়া হবে।