নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের খোঁজার পাশাপাশি ইংলিশবাজার পুরসভার অস্থায়ীদের নিয়ে ঝাড়াই বাছাই শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে শুক্রবার পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি সাফ জানিয়ে দিলেন, কারও চাকরি কাড়া চলবে না। তাঁর ওই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন ছড়িয়েছে। ইংলিশবাজার পুরসভায় প্রায় ১৬০০ অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। যাঁদের একটা অংশ ভূতুড়ে বলে অভিযোগ। খাতায়-কলমে থাকলেও বাস্তবে ওইসব কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায় না বলে দাবি। শুধু তাই নয়, কর্মীদের একাংশ পুরসভায় কাজ না করেও প্রতিমাসে বেতন তুলছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে ঝাড়াই বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইংলিশবাজার পুরসভায় এই মুহূর্তে কত অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন, আদৌও তাঁদের নিয়ম মেনে নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, কোন তহবিল থেকে তাঁদের বেতন দেওয়া হয়, নিয়মিত কত কর্মী কাজে আসেন,পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার স্বাতী চক্রবর্তীর কাছে জেলা প্রশাসনের তরফে সবটা জানতে চাওয়া হয়েছে। এনিয়ে শুক্রবার অতিরিক্ত জেলাশাসক ভাস্কর মজুমদার বলেন, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছেন। আজ-কালের মধ্যে পেয়ে যাব। তাঁর বার্তা, যিনি কাজ করবেন, তিনি বেতন পাবেন। যিনি কাজ করেন না, পুরসভায় আসেন না, তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরসভার অস্থায়ী কর্মী নিয়ে প্রশাসন যখন এমন বার্তা দিচ্ছে, ঠিক সেসময় দলের জেলা কার্যালয়ে বসে ইংলিশবাজারের বিধায়ক তথা পুরসভার বিরোধী দলনেতা অম্লান ভাদুড়ির বক্তব্য, পুরসভায় যে ১৬০০ অস্থায়ী কর্মীর কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের সবাই যে তৃণমূল বোর্ডের আমলে নিযুক্ত হয়েছেন, এমনটা নয়। এর আগে যে বাম-কংগ্রেসের বোর্ড ছিল, তখনও প্রচুর কর্মী ঢোকানো হয়েছে। এখন সবাইকে তাড়িয়ে দেব, এটা বললে চলবে না। পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা সবাই শহরের বাসিন্দা। কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিলে ওঁরা খাবেন কী। সবটা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমার বক্তব্য, অস্থায়ী কর্মীদের উপর কোপ বসানোর বদলে যাঁরা তাঁদের নিয়োগ করেছিল, তাঁদের ধরতে হবে। এদিকে, কৃষ্ণেন্দুর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা গ্রহণে সিদ্ধান্ত নিতে কবে বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠক ডাকা হবে, এদিন পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি। ইংলিশবাজারের মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার বলেন, চেয়ারম্যান বোর্ড অব কাউন্সিলারের কাছে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কাউন্সিলারদের সাতদিনের মধ্যে বৈঠক ডাকতে বলা হয়েছে। ইস্তফাপত্র গ্রহণ হলে পরের সাতদিনের মধ্যে বোর্ড অব কাউন্সিলার ফের বৈঠক ডেকে নয়া চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। এদিন অবশ্য ইংলিশবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুমালা আগরওয়াল বলেন, চেয়ারম্যানের ইস্তফা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক ডাকা হবে। তবে এখন দিন স্থির হয়নি।



