সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষের হস্তক্ষেপে অবশেষে সমস্যা মিটল জল্পেশ মেলা মাঠের ব্যবসায়ীদের। জল্পেশ মেলায় কেউ কোনও গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইসি। বুধবার ময়নাগুড়ি জল্পেশ মেলায় স্টলের ভাড়া নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এদিন প্রশাসন বৈঠক করে সমাধান সূত্র বের করে।
বুধবার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। যদিও বিকেলে ময়দানে নামতে হয় ব্লক প্রশাসন ও পুলিসকে। ওই দিনই স্থির হয়েছিল বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসা হবে। সেই মতো এদিন বৈঠকে বসা হয়। এদিনও বৈঠকের শুরুতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কখনও ইজারাদারের লোকজন যে টাকা চাওয়া হয়েছে সেটাই দিতে হবে বলে বেঁকে বসেন। কখনও সুর কিছুটা নরম করেন। আইসি দু’পক্ষকে নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যান। অনেকক্ষণ ধরে চলে আলোচনা। আইসি ব্যবসায়ীদের দাবি শোনেন। ইজারাদারের লোকজনের দাবিও শোনা হয়। স্টলের ভাড়া নিয়ে মধ্যস্থতা করে দেওয়া হয়। এরপর রাজি হন ব্যবসায়ী এবং ইজারাদার। মেটে সমস্যা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিবচতুর্দশীর দিন থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনের মেলা। বহু পুরনো এই জল্পেশ মেলায় এবারই প্রথম জায়গার ভাড়া নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। মেলা কমিটির পক্ষে সুশীল সেন বলেন, কিছু লোকজন ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে। এরপর কোনও ঝামেলা হলে প্রশাসনকে জানাব। আগে প্রতি বর্গফুট হিসেবে জায়গার ভাড়া দেওয়া হতো। এবার রানিং ফুট হিসেবে হবে। প্রথম গলির ক্ষেত্রে ৩০০ টাকা, পরবর্তী দ্বিতীয়, তৃতীয় সহ যতগুলি গলি রয়েছে সেখানে যেসব স্টল আছে তারক্ষেত্রে ২০০ টাকা করে রানিং ফুট জায়গার ভাড়া ধার্য হল। ব্যবসায়ী মনোজ হাসান বলেন, প্রশাসন এবং ইজারাদার যে ভাড়া স্থির করেছে তাতে আমরা এখন খুশি। কিছু ঝামেলা হয়েছিল, তা মিটে গিয়েছে।
আইসি বলেন, যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ব্যবসায়ী জায়গার দর নিয়ে সহমত পোষণ করছেন। ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, দোকানিরা একটি দর ইজারাদারের কাছে রেখেছিলেন। সেই দরে ইজারাদার রাজি হয়েছেন। আর কোনও সমস্যা নেই।
নিজস্ব চিত্র।