সংবাদদাতা বোলপুর: বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে গজিয়ে ওঠা বিতর্কিত রেস্তরাঁ সংলগ্ন জমি মঙ্গলবার পরিদর্শন করলেন মহকুমা শাসক অয়ন নাথ সহ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা। জেলাশাসক বিধান রায়ের নির্দেশেই এই পরিদর্শন বলে জানা গিয়েছে। ওই রেস্তরাঁটি বিশ্বভারতী হেরিটেজ কোর জোন সংলগ্ন হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সীমানা সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় পাঁচিল দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাতে যাতায়াতের পথ রুদ্ধ হওয়ার অভিযোগে রেস্তরাঁর মালিক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে, হেরিটেজ এলাকায় রেস্তরাঁ নির্মাণ হলে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি হারানোর আশঙ্কা করছে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। সোমবার জেলাশাসককে চিঠি লিখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার। তার প্রেক্ষিতেই এদিন প্রশাসনের আধিকারিকরা ওই জমি পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের এই তৎপরতায় খুশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট। বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বিশাল জায়গাজুড়ে রয়েছে কবিগুরুর কর্মভূমি ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতী। তবে ভৌগলিক কারণে ক্যাম্পাসের ভিতরেও অনেক ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি রয়েছে। তেমনই একটি জমি ছিল শান্তিনিকেতনের সেন পরিবারের। পরবর্তীকালে সেই জমি কেনেন বোলপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ভকতের ছেলে বিকাশ ভকত। তাঁর দাবি, তিনি ওই জায়গায় রবীন্দ্র ভাবনায় রেস্তরাঁ খুলবেন। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরাই উপকৃত হবেন। কিন্তু, ওই রাস্তার উল্টো দিকেই রয়েছে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত দ্বিজবিরাম বাড়িটি। যা হেরিটেজ কোর এলাকার মধ্যে পড়ে। হেরিটেজ সংলগ্ন এলাকায় বোলপুর পুরসভা কোন এক্তিয়ারে রেস্তরাঁ তৈরির অনুমতি দিয়েছে জানতে চেয়ে পুর চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যেই চিঠি লিখেছে বিশ্বভারতী। এর পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় ধারাবাহিক পাঁচিল দেওয়ার কাজও জারি রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। তাতেই পথ রুদ্ধ হয়েছে অভিযোগ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন রেস্তরাঁর মালিক। এদিন দীর্ঘক্ষণ জমি মাপজোখ করেন মহকুমা প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা। জেলাশাসক বলেন, মাপজোকের রিপোর্ট হাতে এলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। তারপরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় কোনও মন্তব্য করেননি রেস্তরাঁর মালিক বিকাশ ভকত।



