Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৌড়, মালিয়ান দিঘির মাছ বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ইঙ্গিত প্রশাসনের, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস

হরিরামপুর ব্লকের গৌড় ও মালিয়ান দিঘিতে অবৈধভাবে মাছ চাষের অভিযোগ পেয়ে টনক নড়ল প্রশাসনের।

গৌড়, মালিয়ান দিঘির মাছ বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের ইঙ্গিত প্রশাসনের, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিরামপুর ব্লকের গৌড় ও মালিয়ান দিঘিতে অবৈধভাবে মাছ চাষের অভিযোগ পেয়ে টনক নড়ল প্রশাসনের। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কার মদতে বিশাল এই দুই দিঘিতে মাছ চাষ হচ্ছে, প্রশাসন কেন পদক্ষেপ করছে না সেই প্রশ্নই আগেই তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা। বুধবার হরিরামপুর ব্লক ভূমি সংস্কার দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেন কংগ্রেসের কর্মীরা।

Advertisement

তাঁদের দাবি, শুধু এই দুই দিঘিই নয়, ব্লকজুড়ে কয়েক হাজার সরকারি পুকুর ও দিঘিতে বেআইনিভাবে মাছ চাষ চলছে। ফলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে রাজ্য সরকার। বিষয়টি নিয়ে এদিন ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিকের সঙ্গে কংগ্রেস প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। দপ্তরের আধিকারিক দীপঙ্কর রায় বলেন, অবৈধভাবে মাছচাষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। দিঘির মাছ বিক্রি করে কর আদায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। এই অবৈধ কারবারের পিছনে কারা রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘি জেলা জলকর কমিটির অধীনে রয়েছে। কয়েকশো একর বিস্তীর্ণ এই দুটি দিঘিতে প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে কয়েক কোটি টাকার মাছ চাষ হচ্ছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। প্রভাবশালীদের মদতে এই কারবার চলছে। বহুদিন ধরে এই কারবার চললেও প্রশাসন এতদিন শীতঘুমে ছিল। কংগ্রেস সরব হতেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারি জানিয়েছেন, মৎস্যজীবীরা যাতে দিঘিতে না নামতে পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ নিয়ম অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, প্রশাসন দিঘির মাছ বিক্রি করে রাজস্ব আদায়ের পথে হাঁটতে পারে। তবে তাতেও থেকে যাচ্ছে আশঙ্কা। প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে প্রভাবশালীরা মাছ তুলে নিতে পারে। এই আশঙ্কা করছে কংগ্রেস সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। কংগ্রেস নেতা সোনা পাল বলেন, অবৈধ উপায়ে যারা মাছ চাষ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। দিঘিতে থাকা মাছ বিক্রি করে সেই টাকা রাজ্যের কোষাগারে জমা দিতে হবে। কেউ যাতে মুনাফা লুট করতে না পারে, সেটা প্রশাসনকে দেখতে হবে। প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি প্রভাবশালীদের প্রভাব? কী কারণে এতদিন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে হরিরামপুর জুড়ে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে কীভাবে সরকারি দিঘি ও জলাশয়গুলি থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করছে, তা নিয়ে জেলাজুড়ে জোর চর্চা চলছে।  প্রশাসন এই অবৈধ কারবার বন্ধে আশ্বাস দিলেও কতটা কার্যকরী হয়, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ