রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে ঝোড়ো ব্যাটিং করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। এক মাসের মধ্যে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে একশো শতাংশ মানুষের সমস্যার সমাধান করল জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিন লক্ষের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দুয়ারে সরকারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ৮ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি ছিল। যা একপ্রকার রেকর্ড। তার মধ্যে ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। তবে ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে দুয়ারে সরকারে জমা পড়া ওল্ডেজ পেনশন বা বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও মানবিক প্রকল্পে আবেদনগুলিতে এখনও রাজ্যের তরফে ছাড়পত্র মেলেনি। এই চারটি প্রকল্প মিলিয়ে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৩৪টি আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাড়পত্র এলেই মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বিভিন্ন কারণে জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পে মাত্র ৪ হাজার ৯৫১ টি আবেদন বাতিল হয়েছে। পরের দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে সেই সমস্যার সমাধানও করা হবে।
জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, দুয়ারে সরকারের প্রচুর পরিমাণে মানুষের ভিড় হয়েছিল। একমাসের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য আবেদন করা একশো শতাংশ মানুষকে নানা প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। সকলের প্রচেষ্টায় সাফল্য এসেছে।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই ২০২০ সাল থেকে শুরু হয় দুয়ারে সরকার শিবির। এরফলে বর্তমানে জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কোনও না কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এতে খুশি জঙ্গলমহলের মানুষ। জানা গিয়েছে, গতবারের আটটি শিবিরের মধ্যে এবারের শিবিরে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম হয়েছিল। এই নবম দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে জেলাজুড়ে ৬ হাজার ৫৯টি শিবির হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া প্রত্যন্ত এলাকার জন্য ২ হাজার ৬৬০টি ছিল মোবাইল ক্যাম্প ছিল। এই শিবিরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ মানুষ উপকৃত হয়েছে বলে মানছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ১৬ হাজার ৬৮০ জন, এস টি ও এস সি সার্টিফিকেট ৩ হাজার ১৯১ জন, খাদ্য সাথী প্রকল্পে ৫ হাজার ৪১০ জন, কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ১৭ হাজার ৪৪২ জন, ঐক্যশ্রী প্রকল্পে ৩০ হাজার ৯ জন, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পে ২ লক্ষ ৫ হাজার ২৬৫ জন উপকৃত হয়েছেন। বাকি ৩৩ টি প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন জেলার ৩ লক্ষ ৫ হাজার ৭২৬ জন মানুষ।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, এবছর মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নানা প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। বহু প্রত্যন্ত এলাকায় আধার কার্ড নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১০ হাজার ৫১৪ জনের আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে।
এদিন কথা হচ্ছিল পিংলা এলাকার বাসিন্দা স্বপন দেবনাথের সঙ্গে। তিনি বলেন, আধার কার্ডের সমস্যা ছিল। দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এবারের দুয়ারে সরকারে প্রশাসন দারুণ কাজ করেছে। আমাদের গ্রামের বহু মানুষ উপকৃত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।