সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় , কোচবিহার: কোচবিহারকে হেরিটেজ শহরে রূপান্তরিত করতে জোড়া লক্ষ্য। প্রথমত, শহরের ৩৩টি দিঘি সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন। পাশাপাশি, শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন স্থাপত্যের তালিকা করে ধাপে ধাপে সংস্কারে জোর দেওয়া হবে।
রাজনগর কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তার অঙ্গ হিসেবে সাগরদিঘির সৌন্দর্যায়নের প্রস্তাবিত কাজ এগিয়েছে অনেকটাই। বৈরাগী দিঘির সৌন্দর্যায়ন শেষ। ফলে মদনমোহন মন্দিরের উল্টো দিকে থাকা বিশাল এই দিঘির সৌন্দর্য এখন সকলের নজর কাড়ে। এদিকে, ঐতিহাসিক লম্বা দিঘি সংস্কারের কাজ এরমধ্যেই শুরু হবে। কিন্তু এগুলি ছাড়াও কোচবিহার পুরসভা এলাকায় বেশকিছু দিঘি আছে। সেগুলি একসময় বর্ষার জল ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক ছিল। কিন্তু ফাঁকা জায়গায় প্রচুর বাড়িঘর মাথা তুলে দাঁড়ানো ও দিঘিগুলি নাব্যতা হারানোয় এখন শহরে খুব সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যায়। তাই কোচবিহার শহরে জল জমার সমস্যা মেটাতে ওই দিঘিগুলি দ্রুত সংস্কার করতে চাইছে হেরিটেজ কমিটি। পাশাপাশি, শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কম্প্রিহেনসিভ ড্রেনেজ স্কিমের মাধ্যমে একইসঙ্গে জল নিকাশি ব্যবস্থা ও দিঘি সংস্কার হলে কোচবিহার শহরের জল জমার সমস্যার যেমন স্থায়ী সমাধান হবে, হেরিটেজ শহর হিসেবে সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে যদি জেলার অনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন স্থাপত্যগুলির সংস্কার করা যায়, তাহলে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা হেরিটেজ কমিটির পেট্রন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, কোচবিহার শহরের বৃষ্টি হলে জল জমার সমস্যা রয়েছে। এখন শহরে ফাঁকা মাঠ বা জমি তেমন নেই। তাই বর্ষার জল সেসব জায়গায় নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা চাইছি যত দ্রুত সম্ভব নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে।
রবি যোগ করেন, শহরের মধ্যে ৩৩টি দিঘিকেই ধাপে ধাপে সংস্কার করা হবে। সাগরদিঘির কাজ অনেকটা করে ফেলেছি। বৈরাগী দিঘির সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ হয়েছে। জেলার অন্যান্য জায়গায় প্রাচীন স্থাপত্যের তালিকা তৈরি করছি। সেগুলিও সংস্কারের চেষ্টা করা হবে।