Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি প্রকল্প কার্যকর করতে সমস্যায় প্রশাসন , ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে অনাস্থায় লাগাম পদ্মের

পালাবদলের পর থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ কার্যত অচল

সরকারি প্রকল্প কার্যকর করতে সমস্যায় প্রশাসন , ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে অনাস্থায় লাগাম পদ্মের
  • ২৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: পালাবদলের পর থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ কার্যত অচল। পদাধিকারী জনপ্রতিনিধিদের পদত্যাগ, পদে থেকেও নিষ্ক্রিয়তা, অনাস্থা প্রস্তাব, জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ—এ সবের মধ্যে দিয়েই বিগত তিন মাস কেটেছে। বিজেপির তরফ থেকেও নীচু তলায় পঞ্চায়েতের রাশ নিজেদের দিকে রাখতে চাইছে। এই ডামাডোল পরিস্থিতিতে উন্নয়নমূলক কাজও থমকে গিয়েছে। এবার সেই ‘হানিমুন’ পর্বেই রাশ টানতে চাইছে বিজেপি। তাই অহেতুক গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা আনা যাবে না। এমনই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। কোথাও প্রয়োজন পড়লে জেলা ইনচার্জ, বিভাগের কনভেনার এবং জেলা সভাপতি নিয়ে তৈরি থ্রি-ম্যান কমিটির মাধ্যমেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী ৬ মাস তৃণমূল থেকে কাউকে যোগদান করানো যাবে না। এমনই নির্দেশ এসেছে জেলা নেতৃত্বের কাছে। কারণ, পঞ্চায়েতস্তরে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জেরে কেন্দ্র সরকারের ভিভি রামজি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

নদীয়া তথা গোটা রাজ্যজুড়ে সিংহভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ তৃণমূলের দখলে রয়েছে। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে কাজকর্ম একরকম লাটে। পঞ্চায়েত প্রধানরাও অফিসে যাওয়া কার্যত ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে একাধিকবার হুঁশিয়ারিও দিতে হয়েছে। রাজ্যে প্রায় ২,০০০ জন পঞ্চায়েত প্রধান নিষ্ক্রিয়। 
নদীয়া জেলা পরিষদে তৃণমূলের তরফে অনাস্থা এনে সরানো হয়েছে সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরকে। নাকাশিপাড়া ব্লকের বিরপুর-১, ধর্মদা, মুড়াগাছা, বিক্রমপুর পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধানদের পদত্যাগ করার পাশাপাশি অনাস্থাল মাধ্যমে প্রধানদের সরানো‌ হয়েছে। সম্প্রতি ধুবুলিয়া-২ পঞ্চায়েত প্রধানকে সরানো হয়েছে অনাস্থার মাধ্যমে। এমনকী, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের দোগাছি পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান অপসারিত হয়েছেন বিজেপি সদস্যদের ডাকা অনাস্থা প্রস্তাবেই। আবার বেশ কিছু পঞ্চায়েতে আইন শৃঙ্খলার কারণে অনাস্থার তলবি সভা ঝুলে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই প্রক্রিয়া কোথায় তৃণমূল বিজেপিকে সমর্থন করছে। আবার কোথায় বিজেপি তৃণমূলকে সমর্থন করছে। 
নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি রঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘অযথা কোনো পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি বিজেপি ফেলবে না। কিন্তু যদি কোনো পঞ্চায়েতে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং সেখানে বিজেপির সদস্যদের দ্বারা যদি সমাধানের রাস্তা বের হয়, তা হলে সেক্ষেত্রে বিষয়টি ভেবে দেখা হবে। নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবে। খুশি মতো অনাস্থা আনা যাবে না।’ কয়েকদিন আগেই রাজ্য নেতৃত্ব অমিতাভ চক্রবর্তী নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে সংগঠনকে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি দল ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি বিধানসভায় বিধায়ক, জেলা নেতৃত্ব, স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি-সহ ৬ থেকে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। যেসব বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক নেই, সেখানে জেলা নেতৃত্ব ও মণ্ডল সভাপতিদের নিয়ে কমিটি তৈরি হবে। এই কমিটিই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ