Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্বস্থলীতে পাঁচ মাসে ১০০ নাবালিকাকে বিয়ের পিঁড়ি থেকে ফিরিয়ে আনল প্রশাসন

পূর্বস্থলীতে পাঁচ মাসে ১০০ নাবালিকাকে বিয়ের পিঁড়ি থেকে ফিরিয়ে আনল প্রশাসন
  • ২৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দৃশ্য-১: পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুর বিবি হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসছিল না। খবর গেল আধিকারিকদের কাছে। সময় নষ্ট না করে তাঁরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। বাবা-মায়ের কাছে জানতে চাইলেন, মেয়ে কোথায়? উত্তর এল, ‘বাইরে গিয়েছে।’ পাল্টা জবাব দিয়ে আধিকারিকরা বললেন, ‘মেয়েকে ডেকে আনুন। ওকে না দেখা পর্যন্ত আমরা উঠব না।’ অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী আধিকারিকদের সামনে আসার পর স্বস্তি ফিরল। তাঁরা নিশ্চিত হলেন, যাক নাবালিকার বিয়ে হয়নি। 

Advertisement

দৃশ্য-২: বর্ধমান-১ ব্লকের খেতিয়া পঞ্চায়েতের এক ছাত্রী ক্লাসে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। সোমবার আধিকারিকরা তার বাড়ি পৌঁছে জানতে পারেন, ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বাবা-মাকে আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দেন, নির্দেশ অমান্য করে বিয়ে দিলে বাড়ির সকলকেই শ্রীঘরে যেতে হবে। পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অধিকাবিকরা অফিসে ফিরে আসেন। ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে এভাবেই  ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন আধিকারিকরা। গত পাঁচ মাসে তাঁরা প্রায় ১০০জন নাবালিকাকে বিয়ের পিঁড়ি থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মন্তেশ্বর ব্লকের কুলুট এবং কালীগ্রামে দুই ছাত্রীকে বিয়ের পিঁড়ি থেকে ফেরানো হয়েছে। রবিবার রাতেও মঙ্গলকোটের দুই ছাত্রীর বিয়ে আটকানো গিয়েছে। ওই রাতে কালনা-১ ব্লকের বেগমপুর পঞ্চায়েতের আর এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিনের মধ্যে খণ্ডঘোষ, কেতুগ্রাম, আউশগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকার ছাত্রীদের বিয়ে আটকে স্কুলে ফিরিয়েছেন  আধিকারিকরা। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য প্রতিটি ব্লকেই বিশেষ অভিযান চলছে। বাবা-মাকে বোঝানো হচ্ছে। মেয়েদের পড়াশোনার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রীর মতো প্রকল্পগুলি থেকে ছাত্রীরা পড়াশোনার খরচ পেয়ে থাকে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য রয়েছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড।জেলা প্রশাসনের আর এক আধিকারিক বলেন, কন্যাশ্রী ক্লাবগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। তারাও সহপাঠীদের খবর রাখছে। যেসব কন্যাশ্রী ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। মাঝে স্কুলছাত্রীদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আধিকারিকরা লাগাতার অভিযান চলাতে থাকায় তাতে কিছুটা হলেও রাশ পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ছাত্রীদের খবর রাখছেন। কোনও ছাত্রী টানা এক সপ্তাহ অনুপস্থিত থাকলে তাঁরা বাবা-মাকে ডেকে পাঠাচ্ছেন। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসার জন্য বলা হচ্ছে। কোনও অভিভাবক এই নির্দেশ পালন না করলে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও সেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। পড়াশোনার বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না, তাঁরা অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ