Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে স্কুলে নলকূপ বসানোর বকেয়া শোধ করা নিয়ে প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির সংঘাত

নন্দীগ্রামে স্কুলে নলকূপ বসানোর বকেয়া শোধ করা নিয়ে প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির সংঘাত
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামের স্কুলে সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর পেমেন্ট নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে জড়াল বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতি। নন্দীগ্রাম-১ব্লকের সাউদখালি ভজহরি বোর্ড প্রাইমারি স্কুলে ২০২৩সালে সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়। ব্লক প্রশাসন টেন্ডার ডেকে ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করিয়েছে। এখন ওই স্কুলের রিপেয়ারিং গ্রান্টের টাকা আসায় প্রশাসন সেই তহবিল থেকে ঠিকাদারের বকেয়া পেমেন্ট মেটাতে চাইছে। কিন্তু, সেই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি। বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামলকুমার সাউ, পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস দাস প্রমুখ ওই স্কুলে যান। তাঁরা এই ইস্যুতে জেলাশাসক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন।

Advertisement

২০২৩সালে সাউদখালি ভজহরি প্রাইমারি স্কুলে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হয়েছিল। সেই সময় পানীয় জলের সঙ্কট থাকায় ব্লক প্রশাসন জরুরিভিত্তিতে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়েছিল। এজন্য মোট দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়। টেন্ডার, ওয়ার্ক অর্ডার সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া মেনেই কাজ হয়। দু’বছরেও সেই টাকা পেমেন্ট আটকে ছিল। এখন ওই স্কুলের রিপেয়ারিং খাতে টাকা আসায় সেখান থেকে দেড় লক্ষ টাকা ঠিকাদারকে পেমেন্ট করার কাজ শুরু করে ব্লক প্রশাসন। এতেই আপত্তি ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পঞ্চায়েত সমিতির।
ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপকুমার কাজলি বলেন, নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার বারবার আমাকে ফোন করে সাবমার্সিবল পাম্পের ছবি তুলে পাঠাতে বলেন। তিনি স্কুলের রিপেয়ারিং গ্র্যান্টের টাকা সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর কাজে ঠিকাদারকে পেমেন্ট করতে চান বলে জানান। আমি ব্লক প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারিনি। আমরা রিপেয়ারিং গ্র্যান্টের টাকা স্কুল বিল্ডিং এবং রান্নাঘর মেরামত করতে চাই। অন্য খাতে ওই টাকা খরচ হোক তা চাই না।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামলবাবু বলেন, রিপেয়ারিং খাতের টাকা শুধুমাত্র স্কুল বিল্ডিং কিংবা রান্নাঘর রিপেয়ারিংয়ের কাজে লাগানো হয়। সেই টাকায় দু’বছর আগে সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর কাজে পেমেন্ট হবে কেন? তাছাড়া, ভোটের সময় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের জরুরি কাজে নির্বাচন খাতের টাকা খরচ করা হয়। সেই টাকা স্কুলের প্রাপ্য থেকে কাটা হবে কেন?
নন্দীগ্রাম-১ বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, ২০২৩ সালে ওই স্কুলে সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছিল। তার টেন্ডার থেকে ওয়ার্ক অর্ডার সবই রয়েছে। ঠিকাদারকে এখনও পেমেন্ট করা হয়নি। এখন স্কুলের তহবিলের টাকা থেকে ঠিকাদারকে পেমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক সময় ফান্ড বরাদ্দ হওয়ার আগে টেন্ডার ডেকে কাজ করি। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ