নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মোবাইলের নেশায় বুঁদ নয়া প্রজন্ম। স্কুল ছুটির পর কচিকাঁচাদের আর ফুটবল মাঠে দেখা যায়নি। গ্রাম হোক বা শহর, সব জায়গাতেই ছবিটা একই রকম। অবসর সময়টা অল্প বয়সিদের মোবাইলে চোখ রেখেই কাটে। ছোটদের মোবাইলের এই নেশা কাটাতে উদ্যোগী পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। আইএফএ-র সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে জেলা প্রশাসন। বর্ধমানের স্পন্দন কমপ্লেক্সে জেলার কিশোর কিশোরী ও যুবক যুবতীদের প্রশিক্ষণ দেবে আইএফএ। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, ১৫০ জন ছেলে এবং মেয়েকে ফুটবলের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, আইএফএ-র সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক কথা হয়েছে। আশা করা যায়, খুব শীঘ্রই চুক্তি হবে। আইএফএ-র সেক্রেটারি অনির্বাণ দত্ত বলেন, পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আইএফএ নদীয়া জেলাতেও ফুটবলের কোচিং দিতে চলেছে। সেখানে তারা তিনটি ইউনিট তৈরি করবে বলে প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে। তবে বর্ধমানে শুধু স্পন্দন কমপ্লেক্সেই কোচিং শুরু হবে। বারো মাস কোচিং দেওয়া হবে। স্পন্দন কমপ্লেক্স নিয়ে তেমন আপত্তি জানায়নি আইএফএ। তাদের যুক্তি, মাঠ আরেকটু বড় হলে ভালো হতো। তবে এই মাঠেও কোচিং দিতে তেমন সমস্যা হবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই চুক্তি হতে পারে। এই সিদ্ধান্তে খুশি ফুটবল প্রেমীরা। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা শিবু ঘোষ বলেন, এক সময়ে বর্ধমান থেকে অনেক বড় বড় ফুটবলার উঠে এসেছে। এখন খেলার সেই রেওয়াজ নেই। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মাঠে যাওয়ার প্রবণতা কমে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয়। আবার জেলা থেকে নতুন ফুটবলার উঠে আসবে। স্থানীয়রা বলেন, জেলার কয়েকটি গ্রামে ফুটবল খেলার চল রয়েছে। ভাতারের রবি হাঁসদা বাংলার দলে খেলে নজর কেড়েছেন। ভাতার এলাকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু শহরগুলিতে সেই প্রবণতা নেই। অল্পবয়সিরা মাঠে না গিয়ে মেবাইলে বুঁদ হয়ে রয়েছে। তার একাধিক খারাপ প্রভাব রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলাশাসকের উদ্যোগেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। খেলার মানোন্নয়নের জন্য তিনি একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছেন। এক আধিকারিক বলেন, খেলার মাঠে গেলে শুধু শরীরচর্চা হয় না, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে নতুন প্রজন্ম বিপথে চলে যাচ্ছে। সেই কারণে তাঁদের বেশি করে মাঠে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েদেরও প্রশিক্ষণ দেবে আইএফএ। পরবর্তী সময়ে তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন নামী ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন। জেলায় বেসরকারি উদ্যোগে কয়েকটি জায়গায় কোচিং দেওয়া হয়। কিন্তু এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফুটবল মাঠে নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ পাবে।