Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদালতের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে মোবাইল, হেডফোন, বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার তরুণী সহ ৫

আদালতের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে মোবাইল, হেডফোন, বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার তরুণী সহ ৫
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রবিবার ছিল বাঁকুড়া জেলা আদালতের নিয়োগ পরীক্ষা। সেখানে কারচুপি করার অভিযোগে ছ’জন পরীক্ষার্থীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে বাঁকুড়া সদর থানা ও একজনকে বিষ্ণুপুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে এক যুবতীও রয়েছে। ধৃতরা মোবাইল ফোন ও ব্লু টুথ হেডফোন নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ। ওই ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি থাকে না। ধৃতরা অসৎ উপায় অবলম্বন করে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে পুলিস জানিয়েছে। 
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, বাঁকুড়া সদর থানার হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পরীক্ষার্থীদের নাম অভিজিৎ বালা, দোস্ত মহম্মদ, শাহিন আখতার, কঙ্কন বর্মন ও বুদ্ধদেব মাহাত। তাদের বাড়ি মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হুগলি ও নদীয়া জেলায়। বাঁকুড়া শহরের একাধিক স্কুলে ওই পাঁচজনের সিট পড়েছিল। ধৃতদের সোমবার বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ মার্চ পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 
বাঁকুড়ার সরকারি আইনজীবী রথীনকুমার দে বলেন, জেলা আদালতে করণিক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মী মিলিয়ে প্রায় ১০০ শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রবিবার সেই নিয়োগের পরীক্ষা ছিল। সবমিলিয়ে প্রায় ৫৭ হাজার জন আবেদন করেছিলেন। তারমধ্যে ঝাড়াইবাছাইয়ের পর ৪৩ হাজার জনকে ডাকা হয়েছিল। বাঁকুড়া, খাতড়া ও বিষ্ণুপুর শহরের স্কুলগুলিতে পরীক্ষা হয়। সেখানে ছ’জন পরীক্ষার্থী মোবাইল ও ব্লু টুথ হেডফোন নিয়ে প্রবেশ করেছিল। পুলিস ওই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিষ্ণুপুরে গ্রেপ্তার হওয়া পরীক্ষার্থীর নাম মাজেদুর রহমান। তার বাড়ি মালদহের চাঁচল থানা এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, রবিবার বিষ্ণুপুর শিবদাস সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে ওই পরীক্ষার্থী দু’টি মোবাইল নিয়ে হলে ঢুকেছিল। হলে গার্ড দেওয়া এক শিক্ষিকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে থাকা দু’টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। 
শিবদাস সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা কুণ্ডু বলেন, আমাদের কেন্দ্রে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ৪১৬ জন পরীক্ষার্থী ছিল। দুপুর ১টার পর চেক করে হলে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। দুপুর ২টোয় পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর এক পরীক্ষার্থীকে দেখে সন্দেহ হয়। ওই হলের ইনচার্জ বেঞ্চের তলায় দু’টি মোবাইল দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা বিচারবিভাগের দুই অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। তাঁরাই থানায় জানান। অভিযুক্তকে স্কুলের একটি রুমে বসিয়ে রাখা হয়। পুলিস এসে ফোন দু’টি বাজেয়াপ্ত করে। পরীক্ষা শেষে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও জেলা আদালতের নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগে পুলিস বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। বছর সাতেক আগে ওই পরীক্ষা হয়েছিল। বরাবর ভিনজেলার পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেই ওই অভিযোগ উঠছে। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে ধৃতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।  -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ