Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদালতে শুনানির পর ‘জয়’ দেখছেন স্বপন, পুরসভায় ফিরেই বসবেন চেয়ারে

আদালতে শুনানির পর ‘জয়’ দেখছেন স্বপন, পুরসভায় ফিরেই বসবেন চেয়ারে
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিভিন্ন অভিযোগে ইতিমধ্যেই দল থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন মাল পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহা। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে স্বপন দাবি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলাকারী যেসব নথি পেশ করেছেন তা ভুয়ো। স্বপনের বক্তব্য শোনার পরও বিষয়টি নিয়ে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে খোদ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এসব সত্ত্বেও অবশ্য এদিনের শুনানির পর নিজের ‘জয়’-ই দেখছেন তিনি। এবং দ্রুত মাল পুরসভায় ফিরে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসার ঘোষণাও করেছেন । ‘আত্মপ্রত্যয়ী’ স্বপন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হয়েছিল, আদালতে তার প্রমাণ দিতে পেরেছি বলে মনে করছি। কলকাতা থেকে দ্রুত মালবাজারে ফিরে পুরসভায় যাব। চেয়ারম্যানের চেয়ারেও বসব। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমার উপর থেকে দল যাতে সাসপেনশন তুলে নেয়, সেজন্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখব। 
Advertisement
এদিন ফোনে স্বপন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হয়েছিল, তার জন্য গত দেড় মাস ধরে আমাকে ও আমার পরিবারকে অত্যন্ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেদিয়ে কাটাতে হয়েছে। মালবাজারের মানুষ আমার সঙ্গে ছিলেন। সেকারণে তাঁদের আমার প্রণাম জানাই। আদালতের নির্দেশ শিরোধার্য। সত্যের জয় হবেই।
আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি টাকা নয়ছয় ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে মাল পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের স্বপন সাহার বিরুদ্ধে। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। মাল পুরসভা নিয়ে রাজ্যের পুরদপ্তরও একটি তদন্ত শুরু করে বলে সূত্রের খবর। এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হয় স্বপনকে। এনিয়ে আলোড়ন ছড়ায় ডুয়ার্সের রাজনৈতিক মহলে। দল সাসপেন্ড করলেও স্বপন অবশ্য এখনও মাল পুরসভার চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেননি। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে রেখেছেন তিনি। দল সাসপেন্ড করার পর একদিন মাত্র পুরসভায় গিয়েছিলেন। কয়েকজন অনুগামী কাউন্সিলারকে নিয়ে পুরসভায় বৈঠকও করেছিলেন। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় আর পুরসভামুখো হননি তিনি। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ীকে পুরসভা পরিচালনার দায়িত্ব দেয় দল। সেইমতো উৎপলবাবু পুরসভার যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাচ্ছেন। 
এদিকে স্বপন দল থেকে সাসপেন্ড হতেই তাঁর বিরদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন মাল পুরসভার শাসক দলেরই কয়েকজন কাউন্সিলার। তাঁদের বিরুদ্ধেও অবশ্য পাল্টা তোপ দাগেন স্বপন। বলেন, সময় হলেই ওই কাউন্সিলারদের মুখোশ খুলে দেব।  
এদিন তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর থেকে আমি পুরসভায় যাচ্ছিলাম না। কিন্তু এদিন আদালতে শুনানির পর আমি ‘জয়’ দেখছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতে তার বিরুদ্ধে যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দিয়েছি। আবার আমি পুরোদমে পুরসভা চালাব। তবে আমার কিছু নিকটজন আছেন। তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সবটা করব।
গোটা বিষয়টি নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি মাল পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ী। তিনি শুধু বলেন, দল আমাকে যেভাবে পুরসভার কাজ চালাতে বলেছে, সেটাই করছি। এর বাইরে কিছু বলব না।
সম্পর্কিত সংবাদ