Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদালতে বিপ্লবের ‘নাটক’  বিশেষ তদন্তকারী দলকে ধমক 

আদালতে বিপ্লবের ‘নাটক’  বিশেষ তদন্তকারী দলকে ধমক 
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এবিটি জঙ্গি যোগে গ্রেপ্তার হওয়া বিপ্লব বিশ্বাসকে রবিবার ফের বহরমপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার ১৪ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেছে। এদিন বিপ্লবকে আদালতে তুলে রীতিমতো ধমক খেল এসটিএফের অফিসাররা। বিপ্লবকে নিজেদের হেফাজতে রেখে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার আইনজীবী। তবে এদিন তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে হাজির ছিলেন না। বিপ্লবকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়। তার কথা শুনে এসটিএফের বিরুদ্ধে রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারক। যদিও বিপ্লবকে মারধর করা হয়নি বলেই দাবি করে এসটিএফ। রবিবার দুপুরে বিপ্লবকে আদালতে ঢোকানোর সময় সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। তারপর এজলাসে উঠে বিচারকের সামনে বসে পড়ে। ব্যথায় কষ্ট পেতে থাকে। বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে সে জানিয়েছে, এসটিএফ তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। এসব শুনেই বিচারক তদন্তকারী সংস্থার অফিসারকে সাবধান করেন। বিপ্লবের আইনজীবীও আদালতে তাঁর মক্কেলকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। আদালত বিপ্লবের শারীরিক সমস্যার কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনেছে। এসটিএফের গাড়ি থেকে নামার পর সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে থাকে। আদালতের সিঁড়ির সামনে পড়ে যায়। কোর্টের এজলাসের মধ্যেও একবার পড়ে যায়। আদালত থেকে বেরনোর পর এজলাসের মধ্যে ঢুকতে চাইছিল না, হাজতের বাইরেও একবার বসে পড়ে। এসটিএফের এক অফিসার বলেন, বিপ্লব আইনজীবীর পরামর্শে নাটক করছে। ওকে মারধর করা হয়নি। এমনকী এদিন আমরা নিজেদের হেফজতের জন্য আবেদনও করিনি। অভিযুক্তের আইনজীবী চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, বিপ্লব বিশ্বাসকে চারবার কলকাতায় ডাকে এসটিএফ। সে চারবারই হাজিরা দিয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজিরা দেওয়ার পর ওকে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে গ্রেপ্তার করে। তারপর নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর মারধর করেছে। এদিন আদালতে তোলার সময় দেখছি ওকে পাঁজাকোলা করে নামানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আব্দুল্লাহ বলে একজনকে খুঁজছে এসটিএফ। ওর নাম বিপ্লব। ওকেই আব্দুল্লাহ বলে স্বীকার করানোর জন্য প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। এসটিএফ আব্দুল্লাহ নামের কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না। না হলে আব্দুল্লাহকে না ধরার পিছনে অন্য কোনও আর্থিক ব্যাপার আছে। যে কারণে আব্দুল্লাহকে না ধরে এর উপরে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা ভয়ঙ্কর অভিযোগ বিপ্লবের উপরে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত তারিকুল ছিল বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেখানে তারিকুল নাকি বিপ্লবকে ধর্মান্তকরণ করে আব্দুল্লাহ বানিয়েছে। এদিকে এই বিপ্লব বিশ্বাসের নামে আগে কোনও মামলাই ছিল না। সে কোনও কালে বহরমপুর সংশোধনাগারে যায়নি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিপ্লবের কথা আজ আদালতের বিচারক শুনেছেন। সরকারি আইনজীবী বাগবুল ইসলাম বলেন, এদিন আদালত বিপ্লবকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।  
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ