নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে সস্ত্রীক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার দেবরাজ চক্রবর্তী। স্ত্রী অদিতি মুন্সির জামিনের আবেদন আদালত মঞ্জুর করলেও স্বস্তি মেলেনি দেবরাজের। তবে দু’জনকেই তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
অভিযোগ, ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন পেশায় সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সি। তাঁর স্বামী দেবরাজ ছিলেন বিধাননগর পুরসভার প্রভাবশালী কাউন্সিলার। গত পাঁচ বছরে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি, অর্থ পাচার-সহ একাধিক অভিযোগ ওঠে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। নির্বাচনি হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল প্রার্থী অদিতির বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিধাননগর এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো, জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে দম্পতির বিরুদ্ধে।
উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা দেবরাজ। যুব তৃণমূল কর্মী হিসাবেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ২০১৩ সালে পুরসভার উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ২০১৫ সালেও মেলেনি টিকিট। তারপর কংগ্রেসে যোগ দেন দেবরাজ। বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে জিতেছিলেন। পরবর্তীকালে ফিরে আসেন তৃণমূলে। বিয়ের পর দেবরাজের হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রাখেন অদিতি। রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হন তিনি।
এর আগে আদালত জানিয়েছিল, ১৯ জুন পর্যন্ত এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে এদিন সহানুভুতির গ্রাউন্ডে অদিতির জামিন মঞ্জুর করলেও দেবরাজের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। এদিন বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অদিতির চার মাসের এক শিশুকন্যা রয়েছে। এই অবস্থায় তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে। তবে অদিতিকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু আপাতত বিদেশে যেতে পারবেন না তিনি। নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে তাঁকে। আদালতের অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে পারবেন না। এছাড়াও শর্ত দেওয়া হয়েছে, কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত করা যাবে না। আপাতত বাগুইআটি থানা এলাকায় ঢুকতে পারবেন না প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি। অন্যদিকে, তাঁর স্বামীকে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত। তবে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হচ্ছে না।
রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়েছে, কালিম্পংয়ে অদিতিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল। কিন্তু ভোটের আগে ওই অ্যাকাউন্ট ছাড়া আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। এও বলা হয়, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দু’জন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে। দেবরাজ নিজে ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও অভিযুক্ত।