Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অপছন্দের নেতা-নেত্রীদের প্রার্থী নয়, এবার দিল্লিতে তালিকা পাঠাচ্ছে আদিরা

বঙ্গ বিজেপির আদি-নব্যের সংঘাত এবার গড়াচ্ছে দিল্লি দরবারে। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা আর তাচ্ছিলের জবাব দিতে জেলায় জেলায় জোট বাঁধছেন দলের পুরনো নেতা-কর্মীরা।

অপছন্দের নেতা-নেত্রীদের প্রার্থী নয়, এবার দিল্লিতে তালিকা পাঠাচ্ছে আদিরা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বঙ্গ বিজেপির আদি-নব্যের সংঘাত এবার গড়াচ্ছে দিল্লি দরবারে। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা আর তাচ্ছিলের জবাব দিতে জেলায় জেলায় জোট বাঁধছেন দলের পুরনো নেতা-কর্মীরা। ফলে, বিজেপির অন্দরেই মাথাচাড়া দিচ্ছে আর এক বিজেপি। যাঁরা মূলত দলবদলু নব্যদের প্রার্থী করার বিষয়ে ঘোরতর আপত্তি তুলে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলায় পৃথকভাবে ওইসব প্রস্তাবিত নব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন আদিরা। সেগুলি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নব্যদের ছেঁটে ফেলার আর্জি রাখা হবে। আদি নেতা-নেত্রী ও কর্মীদের এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপে স্নায়ুর চাপ বাড়ছে রাজ্য নেতৃত্বের। 

Advertisement

বাংলায় বিজেপির দুর্দিনে যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে সংগঠনটা করেছিলেন, সুদিন আসতেই তাঁরা ব্যাক বেঞ্চার হয়ে গিয়েছেন। কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন অনেকেই। হাতে গরম উদাহরণ স্বয়ং দিলীপ ঘোষ। উল্টে দলের ভিতর দাপট-দৌরাত্ম্য বেড়েছে জার্সি পাল্টানো নেতা-কর্মীদের। তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন স্বয়ং দিলীপবাবু থেকে শুরু করে আদি নেতাদের অনেকেই। তা সত্ত্বেও একুশের নির্বাচনে আদি নেতাদের বঞ্চিত করে টিকিট দেওয়া হয়েছিল নব্যদের। তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। সেই ভুল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আর যাতে না করে তারজন্য আগেভাগেই দলবদলু অপছন্দের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম অমিত শাহদের কাছে পাঠিয়ে দিতে চাইছেন আদিরা। সেই সঙ্গে সতর্কও করে দেওয়া হবে, প্রস্তাব না মানলে বাংলায় ফের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। 
বিজেপি সূত্রে খবর, একুশের ভোটে টিকিট বিলির প্রক্রিয়ায় সেভাবে নাক গলাননি আদিরা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাকে যেখানে প্রার্থী করেছে, তাই মেনে নিয়েছিলেন। এবার ছবিটা ভিন্ন। একতরফা প্রার্থী ঘোষণাতে প্রবল আপত্তি রয়েছে আদিদের। তাতে নব্য-আদি সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আদি নেতাদের প্রস্তাব মানলে প্রার্থী পদে প্রত্যাশী বহু নব্য নেতার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে না। স্বাভাবিকভাবে তাঁরাও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন। এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আঁচ করে প্রার্থী বাছাইয়ে একাধিক কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একাধিক সংস্থাকে দিয়ে তারা সমীক্ষা করিয়েছে। সেই মতো আলাদা আলাদা তালিকাও তৈরি করছে। সেই সঙ্গে বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে ভোটাভুটি করছে। সেই ভোটাভুটিতে অবশ্য অনেকেই আস্থা দেখাচ্ছেন না। দলের নির্দেশ থাকার পরও অনেকেই অংশগ্রহণ করছেন না। আদিদের একাংশের মতে, এসব গিমিক ছাড়া আর কিছু নয়। এভাবে ভোটাভুটি করে কখনই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থী ঠিক করবে না। সবটাই লোকদেখানো। 
দলের এক প্রবীণ নেতা বলছিলেন, ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় নেতারা নব্যদের কথা শুনেছিলেন। এবারও তাঁরা নিজেদের লোকজনকে প্রার্থী করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সেই কারণেই আদি নেতারা প্রতিটি জেলায় অপছন্দের তালিকা তৈরি করছে। তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দিলে অনেকেই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। বিজেপির রাজ্য নেতা প্রধানচন্দ্র পালও স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দল করছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তাঁদের কথা ভাবতেই হবে। কঠিন সময়েই তাঁরাই মাটি কামড়ে পড়েছিলেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ