নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ি পথে একটানা ৪২ কিমি ম্যারাথন দৌড়লেন ৪৮ বছরের বাঙালি। নির্ধারিত সময়ের আগে দৌড় শেষ করলেন। পেলেন মেডেল।
বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট ২৯ হাজার ফুট উঁচু। তার অর্ধেক উচ্চতা উত্তরাখণ্ডের আদি কৈলাসের। সে পাহাড়ি পথ দুর্গম, বিপদসঙ্কুল। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। তাপমাত্রা মাইনাস ৭ ডিগ্রি। একটু এদিক ওদিক হলে ফ্রস্ট বাইটের সম্ভাবনা। সেখানে এক প্রৌঢ় দৌড়তে শুরু করলেন। এবং ৪২ কিলোমিটার পথ শেষ করলেন ৫ ঘণ্টা ৫৮ মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের দু’ঘণ্টা আগে। ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ছ’টায় শুরু করেছিলেন ম্যারাথন। শেষের ১০ কিলোমিটার শেষ করতে শরীর বেঁকে বসেছিল। পা থেমে থেমে যাচ্ছিল। তবে সব বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্য অর্জনে সফল। মানুষটির নাম অমিত পাল। থাকেন মধ্যমগ্রামে। চলতি অক্টোবরে উত্তরাখণ্ডের আদি কৈলাস পরিক্রমা ম্যারাথনে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র প্রতিযোগী হিসাবে অংশ নিয়েছিলেন। উত্তরাখণ্ডের গুঞ্জি থেকে কুটি গ্রাম পর্যন্ত এই হাই অল্টিটিউড ম্যারাথনের যাত্রাপথ। পাহাড়ি পথ বিস্তর চড়াই, উৎরাই। সমতল রাস্তা প্রায় নেই। অমিতবাবু বলেন, ‘প্রথমে ভাবতেই পারিনি গোটা পথ যেতে পারব। চ্যালেঞ্জটা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছি।’ ২০২১-’২২ সালে ম্যারাথনে দৌড় শুরু তাঁর। প্রথমে ১০, তারপরে ২১ কিমি হাফ ম্যারাথনে অংশগ্রহণ। ধীরে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। মুম্বইয়ে প্রথম পূর্ণ ম্যারাথনে ৪২ কিমি দৌড়েছিলেন। তবে চার ঘণ্টার মধ্যে দৌড় শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সময় লেগেছিল ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিট। ৪৮ বছরের মানুষটি বলেন, ‘আমার কাছে ম্যারাথন মানে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হওয়া নয়। নিজের কমফর্ট জোন থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু অর্জন করা।’ আদি কৈলাসে প্রতিযোগিতায় ৭০ কিলোমিটারের আলট্রা ম্যারাথন এবং ৫, ১০ ও ২১ কিলোমিটারের বিভাগ ছিল। তবে অমিত বেছে নিয়েছিলেন ৪২ কিলোমিটারের ব্যবধানই। দৌড় শেষে পেয়েছেন ফিনিশার মেডেল। তিনি পেশায় চিত্রশিল্পী। কখনও প্রথাগত দৌড় প্রশিক্ষণ নেননি। ইউটিউবে এক শিক্ষকের ভিডিয়ো দেখে ছুটতে দেখা। ইউটিউব দেখেই খাওয়া-দাওয়ার রুটিন ঠিক করা। সপ্তাহে চারদিন করে দৌড়ের ট্রেনিং। পরিপূর্ণ নিয়ম মেনে দৌড় প্রশিক্ষণ। আগে পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন। ফলে আদি কৈলাসে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়নি। সবমিলিয়ে পরিশ্রম সফল। ৪৮ বছর বয়সে যখন মধ্যবিত্ত বাঙালি ভুঁড়িটা খুব বেড়েছে... বলে আফসোস করতে করতে ডায়েট শুরু করেন। তখন অমিত দৌড়ন পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে। সফল হন। মেডেল পান। আর পরের দৌড়ের জন্য প্রস্তুত হন। সেই কবে কুসুমকুমারী দাস লিখেছিলেন, আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে...।-নিজস্ব চিত্র



