Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আধুনিক মানের মাছ বাজারের নির্মাণ কাজ শুরু রামপুরহাটে, ব্যয়বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা

আধুনিক মানের মাছ বাজারের নির্মাণ কাজ শুরু রামপুরহাটে, ব্যয়বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বীরভূম জেলায় প্রথম আধুনিক মানের মাছ বাজারের নির্মাণকাজ শুরু হল রামপুরহাট শহরে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকা। শুধু বিক্রিই নয়, এখানে থাকবে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও। নির্মাণ হবে ছশো স্কোয়ার ফুটের কোল্ডস্টোর। ক্রেতাদের জন্য থাকবে পার্কিং, ওয়েটিং রুম। এছাড়া বিক্রি হবে স্বল্পমূল্যে মাছের রকমারি পদ। যদিও এই ব্যবস্থায় খুব একটা সুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাছ ব্যবসায়ীদের কথা ভেবেই মার্কেটের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু যেখানে এই মাছ বাজার করা হচ্ছে তাতে আমাদের সুবিধা হবে না। ফলে নির্মাণ হলেও আমরা সেখানে যাব না। 
Advertisement
কয়েক দশক ধরে শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলা এলাকায় সব্জি, ফল, মাছ সহ নানা সামগ্রী বিক্রি হয়ে আসছে। এই মাছ বাজারে রোজ ১৬-১৮ ট্রাক মাছ আসে। ডায়মন্ডহারবার, হাওড়া এবং ভিন রাজ্য থেকেও আসে রুই, কাতলা, মৃগেল প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের দেশি ও সামুদ্রিক মাছ। ভোর ৩টে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ আসেন। বাজার এলাকা অত্যন্ত ঘিঞ্জি। একজন মানুষ হাঁটলে পাশ দিয়ে যে আরেকজন যাবেন, তার উপায় নেই। তেমনি কাদা জলে ভরে থাকে। বহু আগে এখানে মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য স্টল ও শেড করে দেওয়া হয়। কিন্তু মাছ ব্যবসায়ীর সংখ্যা এত বেশি যে, সকলে সেই শেডের নীচে বসার জায়গা পান না। ফলে রাস্তার ধারেই চলে মাছ বিক্রি। সাইকেল বা বাইক নিয়ে মাছ বাজারে যাবেন, তার কোনও উপায় নেই। অনেকে ফাঁকা জায়গায় সাইকলে বা বাইক লাগিয়ে ঢোকেন। তাতে চুরির ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে জল, আঁশের গন্ধ ও মাছিতে ভর্তি থাকে গোটা এলাকা। বাসিন্দাদের দরজা জানালা খোলাই দায়। তাছাড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি না হওয়া মাছ নষ্ট হয়। বিকল্প সমাধানে নেমে এবার পুরসভার উদ্যোগে শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধুলোডাঙা রোডের ধারে মাছ বাজার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখানেই রয়েছে সুফল বাংলা স্টল। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, একতলা বিল্ডিংয়ে থাকবে ৩০টি স্টল। সেইসঙ্গে ছশো স্কোয়ার ফুটের কোল্ডস্টোর। ক্যান্টিন, ওয়েটিং রুম, পার্কিং সহ সমস্ত ব্যবস্থা থাকবে।  
রামপুরহাট মাস ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক উজ্জ্বল ধীবর বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাছ ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে টাকা বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু যেখানে পুরসভা এই মার্কেট গড়ে তুলছে, সেখানে ব্যবসা ভালো চলবে না। আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। বর্ষায় ওই রাস্তা জলে ডুবে যায়। এমনিতেই চারিদিকে আড়ত খুলে গিয়েছে। গ্রামগঞ্জ থেকে মাছ আর আসে না। লোকে এক জায়গায় সব্জি, আবার দূরের অন্য জায়গায় মাছ কিনতে যাবেন না। মার্কেট এখানে নির্মিত হলে ক্রেতা, বিক্রেতার সুবিধা হতো। যদি পুরসভার সামনের মাঠেও মার্কেটটি করত, তাও ভালো হতো। ওই মার্কেটে আমরা যাব না।  পুরসভার পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, সকল মাছ ব্যবসায়ী যখন নতুন মার্কেটে চলে আসবেন, তখন ক্রেতারাও এখানে কিনতে আসবেন। তাছাড়া শহরের মধ্যেই মার্কেট করা হচ্ছে। এব্যাপারে মাছ ব্যবসায়ীদের বোঝানো হবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ