Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় খুশি মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবার

রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘুরল বাংলায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, জল্পনা, সমীকরণ শেষে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় খুশি মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবার
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘুরল বাংলায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, জল্পনা, সমীকরণ শেষে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই যেন নতুন আবেগে ভাসল অবিভক্ত মেদিনীপুর। কাঁথি থেকে মেদিনীপুর শহর সর্বত্র এখন উৎসব ও উচ্ছ্বাসে ভাসলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। 

Advertisement

বিশেষ করে মেদিনীপুর শহরের পাটনাবাজার এলাকায় অধিকারী পরিবারের ‘মেজকর্তা’ শশাঙ্কশেখর অধিকারীর বাড়িতে শনিবার সকাল থেকে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবারের সদস্যদের মিষ্টিমুখ, শুভেচ্ছার ভিড় তো ছিলই। কারণ, এই বাড়িটিই মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবারের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবাহী ঠিকানা। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেঠামশাই শশাঙ্কশেখরবাবু দীর্ঘদিন ধরে মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা। সরকারি চাকরির সূত্রে বহু বছর আগে তিনি কাঁথি ছেড়ে চলে আসেন মেদিনীপুরে। বয়সে প্রবীণ হলেও রাজনীতি এখনও তাঁর অন্যতম প্রিয় বিষয়। এই বাড়িতে বহুবার শুভেন্দু অধিকারী এসেছেন। এখনো বাড়ির বারান্দায় বসে শশাঙ্কশেখরবাবু ও তাঁর স্ত্রী চঞ্চলতা অধিকারী নানা স্মৃতিচারণ করেন।  শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খবরে খুশি পরিবারের সদস্যরা। শশাঙ্কশেখরবাবু ও চঞ্চলতাদেবী বলেন, ‘শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে, এটা আমাদের পরিবারের জন্য বড় আনন্দের মুহূর্ত।’ অধিকারী পরিবারের ইতিহাসও কম বর্ণময় নয়। শিশির অধিকারীরা ছয় ভাই ও দুই বোন। কাঁথির রাজনৈতিক বাতাসে বড়ো হওয়া এই পরিবার একসময় ছিল আদি কংগ্রেসি আদর্শে বিশ্বাসী। পরে সময়ের সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ।  রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি মেদিনীপুরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের এক নতুন অধ্যায়। একসময় এই মেদিনীপুর ছিল বাম রাজনীতির শক্ত ঘাঁটি। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক লড়াই করেছেন শুভেন্দুবাবু। জঙ্গলমহলকে হাতের তালুর মতো চিনতেন। বামেদের পতন ঘটিয়ে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি তৈরিতে শুভেন্দুবাবুর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। 
এবার বিধানসভা নির্বাচনের পর বোঝা যাচ্ছে, শুভেন্দুবাবুর হাত ধরেই জঙ্গলমহল এখন বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। কারণ এই জেলার ১৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৩টি আসনে জয় পেয়েছে। ঝাড়গ্রামেও সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। 
শশাঙ্কশেখরবাবুর পরিবারের এক সদস্য বলেন, আজ ওর সাফল্যে আমরা খুব খুশি। অবশ্যই মিষ্টিমুখ করেছি। পরিবারের সদস্যকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিতে দেখলাম। মেদিনীপুর শহরের বিজেপি নেতা অপরূপ বকসি বলেন, নতুন ইতিহাস তৈরি হল। শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পেয়ে আমরা খুশি। মেদিনীপুরের মানুষ গর্বিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ