Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হেরিটেজ ঘোষণার অপেক্ষায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক ‘লালভবন’

১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর পৌনে দুটো। ব্রিটিশ জেলাশাসক রবার্ট ডগলাস ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

হেরিটেজ ঘোষণার অপেক্ষায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক ‘লালভবন’
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর পৌনে দুটো। ব্রিটিশ জেলাশাসক রবার্ট ডগলাস ব্যস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে। সেই সময়ে ‘লালভবন’ কেঁপে উঠেছিল বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য ও প্রভাংশুশেখর পালের গুলির আওয়াজে। লুটিয়ে পড়েছিলেন অত্যাচারী জেলাশাসক ডগলাস। প্রদ্যোতের ভাগ্য ছিল বিরূপ। ধরা পড়ে গেলেন! ১৯৩৩ সালের ১২ জানুয়ারি, মাত্র ১৯ বছর বয়সে ফাঁসি হয় শহিদ প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্যের। সে যাত্রায় রক্ষা পান প্রভাংশু। অবিভক্ত মেদিনীপুরের (অধুনা, পশ্চিম মেদিনীপুরের) সেই ঐতিহাসিক ‘লালভবন’ ‘হেরিটেজ’ স্বীকৃতির অপেক্ষায়।

Advertisement

ব্রিটিশ ভারতে বেঙ্গল সেল্ফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী অবিভক্ত মেদিনীপুরেও তৈরি হয় ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড। যা পরবর্তী কালে জেলা পরিষদের রূপ নেয়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কাজ আজও হয় ব্রিটিশ আমলের সেই ঐতিহাসিক ভবন থেকে। এই ভবনেই ইংরেজ জেলাশাসক রবার্ট ডগলাসকে হত্যা করেছিলেন প্রভাংশুশেখর পাল ও প্রদ্যোৎ ভট্টাচার্য। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভবনকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন মেদিনীপুরবাসী। জেলা পরিষদের প্রবীণ শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে জেলাশাসকের মাধ্যমেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান শ্যামপদবাবু। মেদিনীপুরের বর্তমান বিধায়ক শঙ্কর গুছাইতও এই ভবনের হেরিটেজ মর্যাদা চেয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়েছেন। জেলাশাসক জানান, ‘শ্যামপদবাবু আগেই আবেদন জানিয়েছিলেন। শঙ্করবাবুও আবেদন জানিয়েছেন। আমরা পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের কাছে তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’
মেদিনীপুর শিক্ষক ও গবেষক অমিতকুমার সাহু, আইনজীবী ও গবেষক তীর্থঙ্কর ভকত প্রমুখ বলেন, ১৯২০ সালেরও আগে নির্মিত এই ভবনে মেদিনীপুর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে বসেছিলেন দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল। কৃষক আন্দোলন ও লবণ সত্যাগ্রহে যাঁর অবদান অনস্বীকার্য। 
১৯২৬-২৭ সালে নাড়াজোল রাজপরিবারের সদস্য বাবু দেবেন্দ্রলাল খানও বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকাও অপরিসীম। মেদিনীপুরের ‘হেরিটেজ জার্নি’ সংগঠনের তরফে নিসর্গ নির্যাস মাহাতো, শ্বেতা বোস, মুস্তাফিজুর রহমানরা বলেন, ‘ঐতিহাসিক লালভবনের হেরিটেজ স্বীকৃতির অপেক্ষায় আমরা। আশা করি দ্রুত মান্যতা পাবে বলে দাবি।’-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ