নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: আউটডোর, ইন্ডোর বিভাগে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এই নতুন নিয়ম ঘোষণা হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও রোগীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে তড়িঘড়ি জানানো হয়, আগামী রবিবার থেকে হাসপাতালের আউটডোর, ইন্ডোর বিভাগে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে প্রতিদিনের মতো এদিনও ভিড় ছিল। রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে হঠাৎ করে মাইকে ঘোষণা শুরু হয়, ‘আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর জন্য আধার কার্ড লাগবে।’ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আগাম কিছু জানানো হয়নি। তাই অনেকেই আধার কার্ড আনেননি। মাইকে ঘোষণা শুনে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এদিনের মতো আধার কার্ড ছাড়াই নাম লেখানোর আবেদন জানানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য সেই দাবি মেনে এদিন ছাড় দেওয়ার কথা জানায়। ততক্ষণে অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। লাইনে দাঁড়ানো মহিলারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, নতুন নিয়ম চালু করলে বিষয়টি আগাম নোটিশ দিয়ে জানানো যেত। দু’দিন আগে থেকে মাইকিং করতে পারত। কিন্তু, তা না করে হঠাৎ জানানো হয়, আধার কার্ড লাগবে। তাতে রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়রা বিভ্রান্ত হয়ে চারিদিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি। তবে রবিবার থেকে রোগী দেখাতে গেলে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করার কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বছর পঞ্চাশের বাসিন্দা অতনু ঘোষ বলেন, আউটডোরে ডাক্তার দেখাব বলে সকাল ১১টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে হঠাৎ করে ঘোষণা করা হল, আউটডোরে ডাক্তার দেখানোর জন্য আধার কার্ড লাগবে। যাদের আধার কার্ড ছিল না, তাদের অনেকেই চলে গেল। কিছুক্ষণ পর লাইনে যাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের এদিন আধার কার্ড লাগবে না বলে জানানো হয়। রেবা পাল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিস টাঙিয়ে বিষয়টি জানালে এত বিভ্রান্তি তৈরি হত না। বেলপাহাড়ী লালজল গ্ৰামের যুবক বিক্রম মাহাত বলেন, প্রয়োজন হতে পারে ভেবে আধার কার্ড নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। তবে এদিন কার্ডের প্রয়োজন হয়নি।
হাসপাতালের এমএসভিপি অনুরূপ পাখিরা বলেন, আউটডোর, ইন্ডোরে সমস্ত বিভাগে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাঁদের আধার কার্ড নেই, তাঁরা ভোটার বা অন্য সরকারি কাগজ দেখিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।