নয়াদিল্লি: বালুচিস্তানে হিংসার পিছনে ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। রবিবার তার কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের দাবিকে ভিত্তিহীন ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এদিন মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, পাকিস্তান যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছে, তার প্রত্যেকটি খারিজ করছে ভারত। নিজেদের সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর জন্য এটা একটা সহজ উপায়। প্রতিবার বালুচিস্তানে হিংসাত্মক ঘটনার পর এরকম ভুয়ো দাবি না করে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ যে সব সমস্যার কথা বলে আসছে, তার দিকে নজর দেওয়া উচিত পাকিস্তানের। ওই অঞ্চলে দমন-পীড়ন, বর্বরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সঙ্গে সকলেই পরিচিত।
শনিবার পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় হামলা চালায় বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এক সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, ‘ওরা সাধারণ জঙ্গি নয়। ভারত এই সব আক্রমণের পিছনে রয়েছে। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে মিলে ভারত এই হামলাগুলির পরিকল্পনা করেছিল।’ এদিকে, বিএলএ’র দাবি, তাদের হামলায় পাক সেনা, পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পণবন্দি করা হয়েছে অন্তত ১৮ জনকে। বালোচ আর্মি এই হামলার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন হেরফ ফেজ ২’। শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে বিএলএ জানিয়েছে, তাদের বিদ্রোহীরা বালুচিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় একযোগে হামলা চালায়। দশ ঘণ্টা ধরে চলা এই অপারেশনে সেনা, নিরাপত্তা বাহিনী, ব্যাংক, প্রশাসনিক ভবনগুলিকে টার্গেট করা হয়। ৩০টিরও বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস বা দখল করে নিয়েছে বিদ্রোহীরা। দখল করা হয়েছে সেনাছাউনি। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ২০টির বেশি গাড়ি। বিএলএ বিদ্রোহীরা একাধিক শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নিয়েছে। বিদ্রোহীদের দাবি, হামলায় তাদের সাত সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। যদিও শনিবার পাকিস্তানি সেনার তরফে দাবি করা হয়েছিল, বালোচ লিবারেশন আর্মির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জন বিদ্রোহীকে খতম করা হয়েছে। পালটা হামলায় প্রাণ গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৫ জন সদস্যের।