নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কিছুদিন আগে শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার রীতিমতো শোরগোল পড়েছিল শিল্পাঞ্চলে। ১৯নম্বর জাতীয় সড়ক দাপিয়ে বেড়িয়েছিল সাধু বেশে থাকা ছিনতাইবাজরা। হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ডের দুষ্কৃতীরা বাড়ি ফেরার পথে এক মহিলা পুণ্যার্থীর গলার হার ছিনতাই করে। এক ব্যবসায়ীরও সোনার চেন ছিনিয়ে নেয়।
শুধু সাধুবেশে নয়, শিবমন্দিরে ভিড়ের সুযোগে লুট চালিয়েছে মহিলা চোররাও। আসানসোল উত্তর থানার চন্দ্রচূড় মন্দির ও হীরাপুর থানার বারি ময়দানে মহিলাদের হার ছিনতাই হয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে ব্যাপক ভিড় ও ঠেলাঠেলির সুযোগ নিয়ে ভক্ত সেজে লুট চালিয়েছে মহিলা বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্টই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। তবে শিল্পাঞ্চলে মহিলা চোরদের উৎপাত নতুন নয়। দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি কালী মন্দিরের বাৎসরিক উৎসবে ভিড়ের সুযোগে অপারেশন চালিয়েছিল ব্যান্ডেলের মহিলা ছিনতাইবাজ গ্যাং। পরে মন্দিরে ছিনতাইবাজদের ছবি দিয়ে পোস্টার সাঁটিয়েছিল পুলিস। বরাকরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অপারেশন চালাতে এসে পুলিস হাতেনাতে বেশ কয়েকজন মহিলা চোরকে গ্রেপ্তারও করেছিল। তাও যেন মহিলা চোরদের উৎপাত নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
সামনেই পুজো। শিল্পাঞ্চলের বাজারে কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুরের বাজারে ভিড় বাড়ছে। একই অবস্থা হীরাপুর থানা এলাকার বাজারগুলিতেও। কুলটি, বরাকরেও কেনাকাটা শুরু হয়েছে। এবার পুজোর জন্য কেনাকাটা করতে আসা মহিলাদের টার্গেট করবে না তো মহিলা চোরেরা! সেকারণে আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে পুলিস। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই পুজো নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মহিলা চোরদের ঠেকাতে বাড়তি প্রমীলা বাহিনী নামাচ্ছে পুলিস। তাঁরা বাইকে বাজার এলাকা থেকে মন্দির চত্বরে টহল দেবে।
এসিপি ইপ্সিতা দত্ত বলেন, শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে একাধিক শিবমন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভক্ত সেজে মহিলা চোরেরা তা করেছে। এবার পুজোর আগে আমরা বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছি। শুধু ছিনতাই বা কেপমারি নয়, শিল্পাঞ্চলজুড়ে বাড়ি ও মন্দিরে চুরির ঘটনাও ঘটছে। পুজোর আগে তা নিয়ন্ত্রণে আনাই পুলিসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।