সংবাদদাতা, মানকর: আদিবাসী মহিলাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদে ও পুনরায় কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার পানাগড় শিল্পতালুকের একটি কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে বসলেন দিশম আদিবাসী গাঁওতা সংগঠনের সদস্যরা। এদিন সকাল দশটা থেকে তির ধনুক হাতে বিক্ষোভে বসেন তাঁরা।শিল্পতালুকের রাস্তা অবরোধ করে ওই সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় আদিবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে এলাকায় আসে কাঁকসা থানার পুলিস। পুলিসের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে।
Advertisement
উল্লেখ্য, পানাগড় শিল্পতালুকের ওই কারখানার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মহিলাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলে কিছুদিন আগেই কাঁকসা থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন আমানিডাঙার গ্রামের আদিবাসী মহিলারা। এক মহিলা অভিযোগ করে বলেন, আমরা ওই কারখানায় দীর্ঘদিন কাজ করছি। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে কারখানার কয়েকজন আধিকারিক আমাদের সঙ্গে খুবই বাজে ব্যবহার করছে এবং কুপ্রস্তাব দিচ্ছে। আমরা সেগুলি মেনে নিইনি বলে আমাদের বলা হচ্ছে কাজ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এদিন ওই সংগঠনের নেতা বুবুন মাড্ডি বলেন, প্রতিবাদ করায় একমাস আদিবাসী মহিলাদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কারখানার মেশিন অপারেটররা এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাঁদেরও ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়। আমরা ছেড়ে কথা বলব না। আগামী পাঁচদিনের মধ্যে ওই অভিযুক্তের সাজা চাই। এই ঘটনা জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী এদিন বলেন, আমরা সঠিক বেতন, পিএফ, ইএসআই চালু করার দাবি জানাচ্ছি। এক মহিলা বলেন, আমার এক বোনকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। সে রাজি হয়নি বলে আমাদের জানানো হয়, পরের দিন থেকে কাজে আসতে হবে না। আমরা সবাই মিলে কারখানার আধিকারিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমরা কেন কাজে আসব না? উত্তরে বলা হয়, মেয়েদের কাজে নেওয়া হবে না। আমরা এগ্রিমেন্ট পেপারে স্বাক্ষর করলে সবার সামনে করতে চাই। এক আদিবাসী মহিলা বলেন, আমাদের জমিতেই কারখানা হয়েছে। শুরু থেকে আমরা কাজ করছি। এদিন ঘণ্টা খানেক অবরোধ চলে। পরে পুলিস বিষয়গুলি দেখার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।
বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, এলাকার বিডিও মহিলা। তারপরেও শিল্পতালুকে মহিলাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসছে। আশ্চর্যের ব্যাপার কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। শাসকদলের ছত্রছায়ায় না থাকলে কারখানার একজন আধিকারিকের এতটা সাহস হয় না। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কাঁকসা তৃণমূল ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত বলেন, শ্রমিকদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস সব সময় থাকে। এই ঘটনায় আমরাও উপযুক্ত বিচার চাই।
বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা, এলাকার বিডিও মহিলা। তারপরেও শিল্পতালুকে মহিলাদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে আসছে। আশ্চর্যের ব্যাপার কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। শাসকদলের ছত্রছায়ায় না থাকলে কারখানার একজন আধিকারিকের এতটা সাহস হয় না। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে কাঁকসা তৃণমূল ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত বলেন, শ্রমিকদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস সব সময় থাকে। এই ঘটনায় আমরাও উপযুক্ত বিচার চাই।



