Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষ করতে পারলেন না সংলাপ কাঁকসায় মঞ্চেই মৃত্যু যাত্রা অভিনেতার

‘রতনে রতন চেনে..’ আর শেষ করতে পারলেন না সংলাপ। মঞ্চে যাত্রাপালা করতে গিয়ে মঞ্চেই মর্মান্তিক পরিণতি হল অভিনেতার

শেষ করতে পারলেন না সংলাপ কাঁকসায় মঞ্চেই মৃত্যু যাত্রা অভিনেতার
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: ‘রতনে রতন চেনে..’ আর শেষ করতে পারলেন না সংলাপ। মঞ্চে যাত্রাপালা করতে গিয়ে মঞ্চেই মর্মান্তিক পরিণতি হল অভিনেতার। দর্শকের সামনে আচমকাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যাত্রাশিল্পী শুভাশিস ঠাকুর(৬২)। সোমবার রাতে কাঁকসার বামুনাড়ায় তপোবন সিটি আবাসনের নীলাভ মঞ্চে বসেছিল যাত্রার আসর। সেখানেই মঞ্চে যাত্রাশিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি’ নামে একটি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হচ্ছিল। সেই যাত্রায় অনুপ মিত্র, নির্মলেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভাশিসবাবুও অভিনয় করছিলেন। সেখানে সংলাপ বলতে বলতে আচমকাই মঞ্চেই পড়ে যান শুভাশিসবাবু। তড়িঘড়ি সহশিল্পীরা তাঁকে তুলে স্টেজ থেকে পিছনের ঘরে নিয়ে যান। সিপিআর দেওয়া হয়। তাতেও কোনও সাড়া মেলেনি। দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আচমকা এই ঘটনায় সকলেই হতভম্ব হয়ে যান। বন্ধ হয়ে যায় যাত্রাপাল। ওই আবাসনের ২৯ নম্বর টাওয়ারে থাকতেন সুভাশিসবাবু। তাঁর আদিবাড়ি পুরুলিয়ায়। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রকে রেখে গিয়েছেন তিনি। শেষবার শুভাশিসবাবু যখন মঞ্চে অভিনয় করছেন তখন তাঁর বড় ও ছোট মেয়ে বসেছিলেন দর্শক আসনে। এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা।  

Advertisement

এদিন তাঁর সহশিল্পী বিমান মুখোপাধ্যায় বলেন, যাত্রাপাগল মানুষ ছিলেন শুভাশিসবাবু। প্রম্পটারের কথা শুনে তাঁকে কখনও অভিনয় করতে দেখিনি। তপোবন সিটির সামনে তাঁর একটা মুদিখানা দোকান রয়েছে। সেখানে বসেই পাঠ মুখস্থ করতেন। মঞ্চে উঠলে প্রচুর হাততালি পেতেন। যাত্রাপাগল মানুষটির মৃত্যুও হল যাত্রা করতে করতে। অপূরণীয় ক্ষতি হল আমাদের। 
সহশিল্পীরা বলেন, যাত্রার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভাশিসবাবু। দর্শকদের মনে ছাপও রেখেছেন। এবার পরশুরামের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন তিনি। যাত্রার তৃতীয় দৃশ্যে সংলাপ বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। ওঁর বুকে স্টেন্ট বসানো ছিল। এদিন পুরুলিয়া থেকে তাঁর ছেলে পরমবন্ধু ঠাকুর বলেন, বাবা যাত্রার ব্যাপারে ভীষণভাবে উৎসাহী ছিল। তপোবনে গিয়ে যাত্রাপালা চালুর বিষয়ে খুব উদ্যোগ নিয়েছিল। পরিবারের সকলে অভিনয় নিয়ে খুব উৎসাহ দিত। দুর্ঘটনার সময় আমি কাজের জন্য অণ্ডালে ছিলাম। পরে ঘটনার কথা জেনে দ্রুত আসি। তপোবন সিটির বাসিন্দাদেরও মন খারাপ। তারই মাঝে অনেকের মনে পড়ছে শুভাশিসবাবুর শেষ সংলাপ ‘রতনে রতন চেনে..।’  শুভাশিস ঠাকুর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ