Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সক্রিয় সোনা পাচার চক্র, ডিআরআই ও বিএসএফের ধরপাকড়

উৎসবের মরশুমকে কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়েছে সোনা পাচারকারীরা। বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনার বিস্কুট বাজারে ছড়িয়ে দিতে পারলেই বিরাট মুনাফা।

সক্রিয় সোনা পাচার চক্র, ডিআরআই ও বিএসএফের ধরপাকড়
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও শিলিগুড়ি: উৎসবের মরশুমকে কাজে লাগাতে সক্রিয় হয়েছে সোনা পাচারকারীরা। বাংলাদেশ থেকে ভারতে সোনার বিস্কুট বাজারে ছড়িয়ে দিতে পারলেই বিরাট মুনাফা। প্রতি বছর পুজোর আগে পাচারকারীরা অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সতর্ক থাকে বিএসএফও। গত কয়েক সপ্তাহে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে ৬ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রায় ৫০টি সোনার বিস্কুট  বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধরা পড়েছে একাধিক পাচারকারীও। কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা বিভাগ (ডিআরআই) ৫ কেজি ৬১৯ গ্রাম সোনা সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল।

Advertisement

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৪ আগস্ট নদীয়ার ১১ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি বাসে সন্দেহজনক দুই চোরা কারবারিকে আটক করেন। তাদের চপ্পলের ভেতর লুকনো ৭টি সোনার টুকরো উদ্ধার করা হয়। যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। ধৃতরা মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। গত ৭ সেপ্টেম্বর নদীয়ার ১৯৪ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা রাতভর গোপনে নজরদারি চালিয়ে এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে আটক করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৩৫টি সোনার বিস্কুট। যার বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি। ধৃত ব্যক্তি ধনতলা থানার হরিতলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ৯ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় এক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেন জওয়ানরা। তার মোটরসাইকেল থেকে উদ্ধার হয় ৪৯৬ গ্রাম সোনা। কৃষ্ণগঞ্জের বানপুর সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা থেকেও ২৩ সেপ্টেম্বর ৬টি সোনার বিস্কুট বাজেয়াপ্ত করে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। বিএসএফ সূত্রে খবর, পুজোর আগে পাচারকারীরা নান ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে সোনা পাচারের চেষ্টা করে। 
 এদিকে, ডিআরআইয়ের হাতে ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে এদিন তোলা হয়। ৪ জন ধৃতের কাছ থেকে ৫ কেজি ৬১৯ গ্রাম সোনা সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল— পঙ্কজ কুমার, সুরজ কুমার, আশিস কুমার ও সৌভিক পান। এদের মধ্যে প্রথম দু’জনের বাড়ি বিহারের কিষানগঞ্জে। বাকি দু’জন মেদিনীপুরের বাসিন্দা। ডিআরআইয়ের আইনজীবী রতন বণিক বলেন, উদ্ধার হওয়া সোনার বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। এদিন চার পাচারকারীকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিআরআই সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রথমে বিহারের কিষানগঞ্জের একটি মহিলা কলেজের সামনে থেকে দু’জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই এলাকারই একটি ফ্ল্যাট থেকে বাকি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশির সময় ধৃতদের কাছ থেকে মোট ৪৮টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়েছে। যার প্রতিটির ওজন ১১০ থেকে ১১২ গ্রাম করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ