Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সচল শহর, সন্তুষ্ট হাইকোর্ট, একুশে ফুল মার্কস লালবাজারের

রবিবার রাত ২.৩০টা থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেমে পড়েছিল লালবাজার। যার সুফল মিলল ২১ জুলাই দিনভর। একদিকে যখন ধর্মতলার সভাস্থলে একের পর এক মিছিল ঢুকতে শুরু করেছে, রাস্তার এক ধার দিয়ে তখনও সচল থাকল গাড়িঘোড়া।

সচল শহর, সন্তুষ্ট হাইকোর্ট, একুশে ফুল মার্কস লালবাজারের
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস  কলকাতা

Advertisement

রবিবার রাত ২.৩০টা থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেমে পড়েছিল লালবাজার। যার সুফল মিলল ২১ জুলাই দিনভর। একদিকে যখন ধর্মতলার সভাস্থলে একের পর এক মিছিল ঢুকতে শুরু করেছে, রাস্তার এক ধার দিয়ে তখনও সচল থাকল গাড়িঘোড়া। একদিকে সপ্তাহের প্রথম দিন, সেই সঙ্গে তৃণমূলের শহিদ দিবসের বিপুল জমায়েত। তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও রাস্তায় বেরিয়ে দুর্ভোগের আশঙ্কা করছিলেন অনেকে। কিন্তু দেখা গেল, সমাবেশ চলাকালীনও যানজটমুক্ত থাকল শহর। পুলিসের এই ‘ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান’ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করল হাইকোর্টও। সোমবার এজলাসে বসে কলকাতা পুলিসের প্রশংসা করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘রাস্তা খুব সুন্দর মেনটেইন হয়েছে।’
সকাল ৮টা। জওহরলাল নেহরু রোড দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক। পার্ক স্ট্রিট ফ্লাইওভার দিয়ে পরপর গাড়ি, বাইক গিয়েছে অফিস-কাছারির উদ্দেশে। ডোরিনা ক্রসিং থেকে সেই গাড়িগুলি বাম দিকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ডালহৌসি ক্রসিং দিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের দিকে পাঠানো হয় গাড়িগুলিকে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউকে কার্যত তিনভাগে ভাগ করে দিয়েছিল পুলিস। এক পাশ দিয়ে শ্যামবাজার ও উত্তর কলকাতার দিক থেকে মিছিল এসে পৌঁছয় ধর্মতলায়। বাকি দু’টি লেন দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণমুখী যান চলাচল সচল রাখে ট্রাফিক পুলিস। 
বেলা ১১টা। তৃণমূলের বার্ষিক মেগা কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা কর্মী, সমর্থকদের ভিড় তখন অনেকটাই বেড়েছে। রেড রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস ওয়ে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জেলা থেকে আসা অসংখ্য বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থার করে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল উর্দিধারীরা। ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার দু’জন অফিসার ভিন জেলা থেকে আসা বাস, গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। শিয়ালদহ থেকে পরপর মিছিল এস এন ব্যানার্জি রোড দিয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছয়। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই রাস্তা যানবাহন চলাচল করেছে অন্যান্য দিনের মতোই। 
দুপুর ১২টা। আড়েবহরে অনেকটা বেড়েছে ধর্মতলামুখী মিছিলের চেহারা। এক সময় এস এন ব্যানার্জি রোড বন্ধ করতে বাধ্য হয় লালবাজার। সেই সঙ্গে ডোরিনা ক্রসিং বন্ধ করে এক্সাইড মোড় থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় যানবাহন। তবে এর জন্য বিরাট যানজটের কবলে পড়তে হয়নি সাধারণ মানুষকে। লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগে থেকেই ‘ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান’ ঠিক করা ছিল। কোন পয়েন্ট দিয়ে কত গাড়ি ঢুকবে, কোন দিক দিয়ে মিছিল আসবে, তার জন্য আগাম কী ব্যবস্থা প্রয়োজন, সবটাই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে। 
হাওড়া থেকে বিবাদী বাগের অফিসে যাচ্ছিলেন সমীরণ সেন। তিনি বললেন, ‘কোনও বছর ২১ জুলাই বাসে চেপে হাওড়া ব্রিজ পেরতে পারিনি। এবার পারলাম। ট্রাফিক পুলিস ভালো কাজ করেছে।’ এক পুলিসকর্মী জানালেন, রাস্তার মাঝে কোনও মিছিল ঢুকতে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ রয়েছে। নিউ আলিপুর থেকে আসা এক আইনজীবী দাবি করেন, অন্যান্য দিনের মতো একই সময়ে তিনি বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যথা সময়ে কোর্টে পৌঁছেছেন। বিচারপতির বক্তব্য, ‘কলকাতা পুলিসের উপর আমার ভরসা আছে।’ তবে ২১ জুলাইকে কেন্দ্র করে বার অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিল, কোনও মামলার একপক্ষ না এলে যেন সেই মামলার রায় না দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘এভাবে কোর্টের কাজ এগনো যাচ্ছে না। আজ রাস্তার যা অবস্থা, সকালে চাইলেই সাড়ে ১০টার মধ্যে কোর্টে পৌঁছনো যেত।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ