নয়াদিল্লি: ‘সরফরোশি কি তামান্না আব হামারে দিল মে হ্যায়’— রামপ্রসাদ বিসমিলের এই গানই এখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে প্রতিবাদের মন্ত্র! বছরের পর পর বঞ্চনা, অত্যাচারের প্রতিবাদে সেখানে পথে নেমেছে সাধারণ মানুষ। আন্দোলনে আরও ঘৃতাহুতি দিয়েছে ভোটে অশান্তি ও রিগিংয়ের অভিযোগ। পালটা দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গত তিনদিনে সেখানে ৪০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত অন্তত ২০০ জন। এই পরিস্থিতিতে এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হল ভারত। শুক্রবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, প্রতিবাদে সামিল হওয়া সাধারণ মানুষকে ‘শত্রুপক্ষ’ মনে করছে পাকিস্তানি সরকার। পাক প্রশাসনের কাছ থেকে এই অত্যাচারের জবাবদিহি দাবি করুক আন্তর্জাতিক মহল।
রণধীর আরও বলেন, ‘প্রতিবাদে সামিল হওয়া সাধারণ মানুষকে শত্রুপক্ষ বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এই বক্তব্যই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের উপর সেদেশের অবজ্ঞার ছবিটা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।’ ইতিমধ্যেই পাক-প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘ভারতকে ক্ষতবিক্ষত করার জন্য যে ‘মুজাহিদিন’দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তারাই এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে লড়াই করছে।’ তারপরই ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে নয়াদিল্লি। রণধীর আরও বলেছেন, ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির কাছে এই হত্যাযজ্ঞের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। আমাদের দাবি, আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের নৃশংসতার পর্যালোচনা করুক। পাক প্রশাসনের কাছ থেকে জবাবদিহি চাওয়া হোক।’ অশান্ত পিওকে-র মুজফ্ফরাবাদ। ছবি- এএফপি