Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মমতার প্রতীক ফুটবলার, ঋতর খাম, কালীঘাট শিবির ‘মমতা এআইটিসি’, বিদ্রোহী ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’

আসন্ন উপনির্বাচনে লড়তে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়—তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে দেওয়া হল ভিন্ন প্রতীক। অন্য নাম।

মমতার প্রতীক ফুটবলার, ঋতর খাম, কালীঘাট শিবির ‘মমতা এআইটিসি’, বিদ্রোহী ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আসন্ন উপনির্বাচনে লড়তে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায়—তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে দেওয়া হল ভিন্ন প্রতীক। অন্য নাম। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলকে দেওয়া হল প্রতীক ‘ফুটবল পায়ে খেলোয়াড়।’ ঋতব্রত তৃণমূল, অর্থাৎ অরূপ রায়ের নেতৃত্বের গোষ্ঠীকে ‘খাম।’ মমতার দলের এখন থেকে আপাতত পরিচয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।’ অরূপ-ঋতব্রতদের গোষ্ঠীর নাম ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস।’ 

Advertisement

কী নাম, প্রতীক চান, তা শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে দু’পক্ষের কাছেই জানতে চেয়েছিল কমিশন। সেই মতো বৃহস্পতিবার রাত ১১-৩৫ মিনিটেই তিনটি নাম এবং দু’টি প্রতীকের কথা কমিশনে জমা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের চূড়ান্ত করা নামের বাইরে প্রস্তাবিত বাকি দু’টি নাম ছিল, ১) অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মমতা কংগ্রেস। ২) অল ইন্ডিয়া মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। ফুটবল পায়ে খেলোয়াড় প্রতীকের পাশাপাশি পছন্দ হিসাবে দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেট ব্যাট। অন্যদিকে, ঋতব্রতদের ক্ষেত্রে বাকি দু’টি নাম ছিল ১) ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস। ২) ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি দু’টি প্রস্তাবিত প্রতীক ছিল ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চ। 
নির্বাচন কমিশন শুক্রবার প্রতীক এবং দলের নাম আপাতত ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জোড়াফুল অনেক রক্ত ও সংগ্রাম দিয়ে গড়া। গত ২৯ বছর কর্মীদের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে সংগঠন তৈরি। ফলে কাউকে কাড়তে দেব না। গণতান্ত্রিক ও আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাব।’ তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচনের জন্য সাময়িকভাবে বিকল্প নাম, প্রতীক মেনে নিয়েছি। কিন্তু লড়াই করেই পুরানো প্রতীক ফিরিয়ে নেব।’ অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার যোগ্যতা আমাদের নেই। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়, অন্য দল ব্যক্তির নাম ব্যবহার করেছে। আবার সেই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি! আমাদের দলের নামাকরণে ব্যক্তির নাম নৈব নৈব চ।’ 
দু’পক্ষের লড়াই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, ‘উনি (মমতা) ওনার দলকে একজোট রাখতে পারেননি। বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এখানে বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। সব দায়িত্ব ওঁর। নির্বাচনে গণনার দিনই বলেছিলাম, তৃণমূল থাকবে না। দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছেন সর্বশক্তিমান ভগবান। হিন্দু ধর্মকে যিনি আক্রমণ করেছেন, ভগবান রামচন্দ্রের অভিশাপে তাঁর সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’ তবে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির অংশীদার হিসাবে কাজ করছে। এনসিপি, শিবসেনার পর তৃণমূল। বিজেপি নির্বাচন কমিশন দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে খেয়ে ফেলতে চাইছে। যা চুড়ান্ত গণতন্ত্র বিরোধী।’ 
এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, দলের নাম-প্রতীক বদলে যাওয়ায় তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ, বিধায়কদের পরিচয় কী হবে? এ ব্যাপারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ তথা লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল পি ডি টি আচারে বলেন, ‘কমিশন আপাতত স্রেফ উপনির্বাচনের জন্য নতুন প্রতীক এবং নাম বণ্টন করেছে। মূল মামলা বিবেচনাধীন। ফলে তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা সাংসদ বা বিধায়কদের পরিচয় তৃণমূলই। অন্য কিছু নয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ