হরিদ্বার: ১৩টি খুন। তারপর সেইসব মৃতদেহের মাংস রান্না করে খাওয়া। ২০০৬ সালে নিঠারি গণহত্যার এমনই হাড়হিম ঘটনায় গোটা দেশে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। মূল অভিযুক্ত ছিলেন সুরিন্দর কোলি। তবে একে একে সব মামলা থেকেই তিনি খালাস পেয়ে যান। গত বছর শেষ মামলার শুনানিতেও অব্যাহতি পান কোলি। তবে ফাঁসির দড়ি থেকে মুক্তি পেলেও বছর খানেকের মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন সেই সুরিন্দর। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে হরিদ্বারে তিনি একটি চায়ের দোকান খুলেছিলেন। শুক্রবার সেখানেই ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। অবশ্য নিঠারি কাণ্ডে নিহত এক কিশোরীর বাবা দাবি করেছেন, কোলিকে খুন করা হয়েছে। হতে পারে কোলি নিঠারি কাণ্ডের এমন কিছু জানতেন, যা তিনি বলতে চেয়েছিলেন। সেই জন্যই তাঁকে খুন করা হল।
এদিকে অনেকেই বলছেন ১৯ বছর জেল খেটে, ১৩টি খুনের মামলা থেকে ভাগ্যের জোরে অব্যাহতি পেলেও ভয়ানক ওই অপরাধের সাজা কোলিকে পেতেই হল। সেই গলায় দড়ি দিয়েই তাকে ঝুলতে হল। বিগত ১৯ বছর ধরে নিঠারি মামলায় বার বার সামনে এসেছে কোলির নাম। কিশোরী, মহিলা সব মিলিয়ে এতগুলি খুনের এক একটি মামলা যতবার আদালতে উঠেছে, ততবারই চূড়ান্ত সাজার আশায় দিন গুনেছেন নিঠারির স্বজনহারা পরিবাররা। তবে সব মামলা থেকেই একে একে ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন কোলি।
২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাস। নয়ডার সেক্টর ৩১-এ মনিন্দর সিং পান্ধেরের ডি-৫ বাংলোর নর্দমায় উদ্ধার নয় কঙ্কালের অংশ। তার আগে নিঠারি গ্রামের বহু বাসিন্দাই তাঁদের সন্তান নিখোঁজের অভিযোগ থানায় করেছেন। ওই কঙ্কাল উদ্ধারের পর নিখোঁজ তদন্ত নয়া মোড় নেয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী পান্ধের এবং তাঁর পরিচারক কোলিকে। ১৩টি মামলায় নিম্ন আদালতে কোলিকে দোষী সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে পান্ধেরের বিরুদ্ধেও মামলা চলে। তবে দীর্ঘ শুনানির পর ২০২৩ সালে ১২টি মামলা থেকে অব্যাহতি পান কোলি এবং দু’টি মামলা থেকে অব্যাহতি পান পান্ধের। গত বছরে শেষ মামলা থেকেও মুক্তি পেয়েছিলেন কোলি। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে তিনি চায়ের দোকান খুলেছিলেন।