Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘লার্ভা হয়েছে, পরিষ্কার করুন’, শুনেই পুরকর্মীর গায়ে অ্যাসিড

কয়েকদিন টানা বর্ষা হয়েছে। জমা জলে ডেঙ্গুবাহক মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি এখন

‘লার্ভা হয়েছে, পরিষ্কার করুন’, শুনেই পুরকর্মীর গায়ে অ্যাসিড
  • ২৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কয়েকদিন টানা বর্ষা হয়েছে। জমা জলে ডেঙ্গুবাহক মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি এখন। তাই কোথাও জল বা আবর্জনা জমছে কি না, খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা প্রচার চলছে সর্বত্র। সেই কাজ করতে গিয়েই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন সাঁকরাইলের এক মহিলা ভিলেজ রিসোর্স পার্সন (ভিআরপি)। এক বাড়িতে গিয়ে অ্যাসিড হামলার শিকার হলেন তিনি! কাচের শিশিতে রাখা তরল ফেলে দিতে বলায় গৃহস্থ সেটি তাঁকে লক্ষ্য করেই ছুড়ে দেন বলে অভিযোগ। আক্রান্ত ডালিয়া অধিকারী সাঁকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাঁকরাইল থানার পুলিস বিপ্লব মান্না নামে ওই অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত মানসিক ভারসাম্যহীন। 

Advertisement

দক্ষিণ সাঁকরাইল গ্রাম পঞ্চায়েতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ডেঙ্গু সচেতনতার কাজ করছেন ভিআরপি কর্মীরা। কিছুদিন আগে তাঁরা খবর পান, বড়বাগান মান্নাপাড়ার একটি বাড়িতে মশার লার্ভা মিলেছে। সেই পরিবারকে সচেতন করতেই মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ ভিআরপি সাইনা মুন্সি মিদ্দে, সুধা ঘোষ ও ডালিয়া অধিকারী এলাকায় যান। বিপ্লব মান্নার বাড়িতে ডেঙ্গুবাহক মশার লার্ভা খুঁজে পান তাঁরা। কিন্তু তাঁদের কোনও কথা না শুনে পরিবারের লোকেরা প্রতিবেশীদের গাফিলতির প্রসঙ্গ তুলে তর্ক জুড়ে দেন। সেই সময় ডালিয়াদেবী বাড়ির এক কোণে রাখা একটি মুখখোলা শিশিতে তরল পদার্থ দেখতে পান। শিশিটি পরিষ্কার করে রাখতে বলেন তিনি। অভিযোগ, তখন আচমকাই বিপ্লব মান্না ঘর থেকে বেরিয়ে শিশি থেকে সেই তরল ডালিয়াদেবীর দিকে ছুড়ে দেন। কিছুটা গায়ে পড়তেই যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় হাজি এসটি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সরানো হয় বেসরকারি নার্সিংহোমে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর কাঁধ ও পিঠের কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে বাড়ি থেকেই বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। অভিযুক্তের স্ত্রী সোনালি মান্না বলেন, ‘আমার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসা চলছে। এর আগে কখনও সে এই ধরনের কাজ করেনি।’ তিনি আরও জানান, সাপের উপদ্রব ঠেকাতে ওই শিশিতে কার্বলিক অ্যাসিড রাখা ছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জানান, বিপ্লব মান্না একটি কারখানায় কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে সেই কাজ চলে যায়। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী জরির কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছেন। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাঁকরাইলের বিধায়ক প্রিয়া পাল। পুলিসকে আইনত ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ