নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: যুবতীর উপর অ্যাসিড হামলার দায়ে এক বিএসএফ জওয়ানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল রানাঘাট আদালত। বিয়ে করতে চেয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় প্রতিশোধ স্পৃহায় ওই যুবতীর উপর অ্যাসিড হামলা চালায় সাজাপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ান। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে তাহেরপুর থানা এলাকার কালীনারায়ণপুরের এই ঘটনা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। সোমবার সেই ঘটনায় অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ান শঙ্কর দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে রানাঘাট মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার অপরাধীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং আক্রান্ত যুবতীকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক মনোদীপ দাশগুপ্ত। এছাড়া ক্ষতিপূরণ অনাদায়ে অতিরিক্ত দুই বছর কারাদণ্ডেরও নির্দেশ দেন বিচারক।
সেদিন কী ঘটেছিল? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালে। অপরাধীর নাম শঙ্কর দাস। সে নদীয়ার নাকাশিপাড়া ব্লকের কাঁঠালবেরিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। তাহেরপুর থানা এলাকার কালীনারায়ণপুরের বাসিন্দা এক তরুণীকে একাধিকবার বিয়ের প্রস্তাব দেয় শঙ্কর। শুধু তাই নয়, কুপ্রস্তাবও দিয়েছিল শঙ্কর। কিন্তু, ওই যুবতী কোনওভাবেই শঙ্করের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। অভিযোগ, ২০২১ সালের ২০ অক্টোবর শঙ্কর যুবতীর বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে। দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির মাঝেই হঠাৎই শঙ্কর একটি বোতলে থাকা অ্যাসিড যুবতীর মুখ লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে। তাতে গুরুতর দগ্ধ হন ওই যুবতী। তড়িঘড়ি পাড়া-প্রতিবেশীরা তাঁকে রানাঘাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ চিকিৎসায় তাঁর প্রাণরক্ষা হলেও মুখের একাধিক জায়গায় অ্যাসিড ক্ষত রয়ে যায়।
আক্রান্তের পরিবারের তরফে দায়ের হওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে তাহেরপুর থানার পুলিস। নাকাশিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শঙ্করকে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলার রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পরই শঙ্করকে সাসপেন্ড করে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। প্রায় সাড়ে তিন বছর বিচার প্রক্রিয়া চলার পর সোমবার রানাঘাট মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট শঙ্করকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও নির্যাতিতাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
এবিষয়ে সরকারি আইনজীবী দীপক বিশ্বাস বলেন, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাড়িতে লুচি তৈরি করছিলেন ওই যুবতী। সেই সময় বাড়িতে ঢুকে শঙ্কর তাঁর মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারে। ঘটনায় খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। অবশেষে বিচারক অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করে এদিন সাজা ঘোষণা করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের এসডিপিও সবিতা গটিয়াল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিস তদন্ত শুরু করেছিল। তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য প্রমাণ উঠে আসে। আমরা তা আদালতে তুলে ধরেছি। সেই ভিত্তিতে মাননীয় বিচারক অপরাধীকে সাজা দিয়েছেন।