শুভদীপ রায়, কলকাতা: বিড়াল যদি রাস্তা কাটে? ফল—যাত্রায় বাধা। মাঙ্গলিক দোষ আছে? দোষ কাটাতে বিয়ের আগে অনেককেই কলা বা বটগাছের সঙ্গে বিয়ের পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা। কোথাও আবার নজর কাটাতে ঝোলানো হয় লেবু-লঙ্কা। এমনই নানান কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের সমাজজুড়ে। এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা দিয়ে মানুষের মধ্যে যুক্তিবাদী ভাবনার প্রসার বিস্তারে উদ্যোগী হয়েছে তেলেঙ্গাবাগান। ৬০তম বর্ষে তাদের থিম ‘অচলায়তন’। তবে মণ্ডপে ঢুকলেই সবকিছু সচল হয়ে উঠবে। প্রযুক্তির কারসাজিতে এমনটা করতে চলেছেন শিল্পী পরিমল পাল। তাঁর কথায়, মণ্ডপজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে কুসংস্কারের নিদর্শন। কোথাও ঝোলানো হবে বিশাল আকারের লেবুলঙ্কা, কোথাও কালো বিড়াল রাস্তা কাটছে, কোথাও আবার গাছের সঙ্গে বিয়ে। পাশেই থাকবে স্ক্যানার। সামনে মোবাইল ধরলেই সচল হয়ে উঠবে সবকিছু। আর তা করা হবে এআর অর্থাৎ অগমেন্টেড রিয়েলিটির মাধ্যমে। জনপ্রিয় এক সংস্থাকে দিয়ে সেই কাজ করাচ্ছেন শিল্পী। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। সেই দায়িত্বও তাঁরই। পরিমলবাবুর কথায়, ‘প্রতিবারের মতো এবারেও আমার বানানো প্রতিমায় বিশেষ চমক থাকবে।’ লাইভ পারফরম্যান্সের ব্যবস্থাও থাকবে। ভাবনার ছোঁয়া থাকবে সঞ্জয়-সুমিলিতার তৈরি আবহসঙ্গীতে। ‘অচলায়তন’ দর্শকদের মনে দাগ কাটবে, আশাবাদী তেলেঙ্গাবাগানের অন্যতম সদস্য অমৃত সাউ।



