সংবাদদাতা, বজবজ: দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ও অভব্য আচরণের অভিযোগে যে শিক্ষককে বেদম মারধর করা হয়েছিল, তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যেকারণে তাঁকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। তবে আপাতত তাঁকে হাসপাতালে পুলিসি প্রহরায় রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিস মহেশতলার আকড়া হাই মাদ্রাসা স্কুলের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় শ্লীলতাহানির কেস রুজু হয়েছে।
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা। তিনি নাকি ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য ও অশালীন আচরণ করেন। এই অভিযোগ নিয়ে আবার স্কুলের শিক্ষকরা দুই শিবিরে বিভক্ত। একপক্ষ চায়, দোষ করলে শাস্তি পেতে হবে। অন্যপক্ষ ওই শিক্ষকের হয়ে ওকালতি করতে নেমেছে। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে দোটানায় পড়েছে। এর মধ্যেই গত ৪ জুলাই ফের দ্বাদশের এক ছাত্রী অভিযোগ করে, লাইব্রেরি ক্লাসে তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছেন ওই শিক্ষক। এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। মোট ৩৪ জন ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানায় প্রধান শিক্ষককের কাছে। তিনি বিষয়টি মহেশতলা থানাকে জানান। গত শনিবারও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলে ছাত্রীরা। তিনি নাকি এক ছাত্রীর গায়ে এমনভাবে হাত দিয়েছেন, যা শ্লীলতাহানির পর্যায়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে এলাকায়। এমনিতেই আগের ঘটনা নিয়ে পড়ুয়া ও অভিভাবকরা তেতে ছিলেন। এই ঘটনা তাকে আরও উসকে দেয়। স্থানীয় লোকজন দল বেঁধে স্কুলে এসে গোলমাল শুরু করেন। এমনকী, ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে টেনে বের করে গণধোলাই দেওয়া হয়। মারাত্মক জখম হন তিনি। পুলিস জানিয়েছে, তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি এখনও ঠিকমতো কথা বলার অবস্থায় আসেননি।