নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দক্ষিণ দমদমে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল কাউন্সিলারের স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত আজও গ্রেপ্তার হয়নি। এবার স্বামী সহ বাকি অভিযুক্তদের বাঁচাতে খুন হওয়া যুবকের বাড়িতে গিয়ে ৭০ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে চাওয়ার অভিযোগ উঠল কাউন্সিলার ঊষা দেবনাথ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। যুবকের পরিবার টাকা নিতে অস্বীকার করায় তাঁদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। মৃত যুবকের পরিবারের দাবি, কাউন্সিলারের ভয়ে ভোটের আগে তাঁরা থানায় যাওয়ার সাহস দেখাননি। মঙ্গলবার থানায় তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিন্টু সাহা।
২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে নিন্টুবাবুর ভাই নয়ন সাহাকে (২৪) পিটিয়ে খুন করা হয়। অভিযোগ, নয়ন গাঁজার ঠেকের প্রতিবাদ করায় খুন হন। নিন্টুবাবুও স্থানীয় কাউন্সিলার ঊষা দেবনাথের বিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনায় ঊষা দেবনাথের স্বামী অভি দেবনাথ সহ বেশ কয়েক জনের নামে দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। কিন্তু দমদম থানার পুলিশ অভি দেবনাথকে খুঁজে পায়নি। তাই গ্রেপ্তার করা যায়নি। খুনের অভিযোগ তোলার জন্য নিন্টু ও তাঁর পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলার ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার নিন্টুর স্ত্রী ছায়া দাস দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে কাউন্সিলার ঊষাদেবী সহ তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের নাম রয়েছে। ছায়াদেবী অভিযোগে বলেছেন, গত ২৪ মার্চ অভিযুক্তরা তাঁর বাড়িতে জোর করে ঢোকে। খুনের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। বিনিময়ে ৭০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলে। তাঁর স্বামী ও শ্বশুর মামলা তুলবে না বলে জানান। তখন তাঁর স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বাঁচাতে গেলে তাঁকে মারধর করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি পরিবারকে খুনের হুমকি দেয়। নিন্টু সাহা বলেন, আতঙ্কে থানায় যেতে পারেনি। রাস্তায় বার বার হুমকি দিত। বাড়িতে এসে ৭০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কেস তুলে নিতে বলেছিল। আমরা রাজি না হওয়ায় মারধর করেছিল। আমরা সুবিচার চাই। এ বিষয়ে ঊষা দেবনাথ বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আগে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছে। আইন-আদালত ও নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্তে আমাদের আস্থা আছে।