Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ

পরপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীর উপর নারকীয় অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বধূ।

পরপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: পরপর কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীর উপর নারকীয় অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বধূ। ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের আঙ্গারমুনি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বধূর নাম আয়েশা খাতুন। তাঁর বাবার বাড়ি কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর বাগমারা গ্রামে। স্বামীর বাড়ি আঙ্গারমুনি গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম হাসিম শেখ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’বছর আগে প্রেম করে হাসিমের সঙ্গে বিয়ে হয় আয়েশার। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। প্রথমে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন আয়েশা। বছর খানেক পর ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন আয়েশা। দ্বিতীয়বারও কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপরই সংসারে শুরু হয় অশান্তি। আয়েশার উপর ভয়াবহ অত্যাচার শুরু করে তাঁর স্বামী। স্ত্রীকে মারধর করে শরীরে কালশিটে দাগ করে দেয়। অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে বধূকে বেধড়ক মারধর করে বাড়িতে আটকে রাখা হয়। বধূর বাবা সইফুল হক বলেন, বিয়ের সময় জামাইকে আড়াই লক্ষ টাকা যৌতুক দিয়েছি। পরপর দুই কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় মেয়ের উপর চরম নির্যাতন শুরু করে। দুই বছর মেয়েকে বাড়িতে এনে রেখেছিলাম। মাস খানেক আগে মেয়ে শ্বশুরবাড়ি যায়। গত তিন দিন মেয়ের উপর চরম নির্যাতন করেছে জামাই। ঠিকভাবে খেতে পর্যন্ত দেয়নি। মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্ত স্বামী হাসিম স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করলেও সে বলে, আমি জয়পুরে হোটেলে কাজ করি। বছরের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকতে হয়। স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কয়েক দফায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলাম। ভোটের কয়েকদিন আগে বাড়ি ফিরেছি। সেই টাকার কোনো হিসেব দিচ্ছে না স্ত্রী। অপরদিকে যৌতুকের ১ লক্ষ টাকা বাকি ছিল। দু’দিন আগে বকেয়া টাকা দিয়েছে শ্বশুর। স্ত্রী সেই টাকা নিজের কাছে রেখেছে। টাকা চাইতে গিয়েই অশান্তি। কন্যা সন্তানের জন্য মারধরের‌ অভিযোগ মিথ্যা। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষ বলেন,অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ বধূকে উদ্ধার করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ