নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে সেমি কন্ডাক্টর। মোবাইলের চিপ থেকে ব্যাটারি গাড়ি। এটিএম কার্ড থেকে এলইডি ল্যাম্প সর্বত্রই এর ব্যবহার। যে কোন ধরনের আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামে ব্যবহৃত এই সেমি কন্ডাক্টরই তৈরি হবে দুর্গাপুরে। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সেমি কন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট দুর্গাপুরে গড়ার কথা জানিয়েছেন। বণিক মহলের দাবি, দুর্গাপুরে বড় সেমি কন্ডাক্টর কারখানা তৈরি হলে গড়ে উঠবে বহু অনুসারি শিল্পও। ফলে, ইস্পাতনগরীতে খুলে শিল্প সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
সেমি কন্ডাক্টর কারখানার পাশাপাশি বাজেটে দুর্গাপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার গড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করেছিলেন দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে ইস্ট-কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর গড়ে তোলা হবে। উপকূলবর্তী রাজ্য যেমন ওড়িশা অন্ধপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের সঙ্গে যোগযোগ উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে একের পর এক পরিকল্পনা ও ঘোষণায় স্বপ্ন দেখছেন দুর্গাপুরের বেকার যুবক-যুবতীরা। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে দুর্গাপুরকে সাজিয়ে তুলবে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরের মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে আসছেন। এবার তার সুফল মিলতে শুরু করেছে।’
স্বাধীন ভারতে যে কয়েকটি জায়গায় শিল্পে অভূতপূর্ব বিকাশ হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম দুর্গাপুর। সেই সময়ে ইস্পাত সেক্টর ছিল শিল্প বিকাশের বুনিয়াদ। তখনই দুর্গাপুরে গড়ে ওঠে ডিএসপি, এএসপির মতো কারখানা। বাঁকুড়া, বীরভূম ও পুরুলিয়া জেলার মানুষেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় দুর্গাপুরে। দু’টি স্টিল প্ল্যান্টকে কেন্দ্র করে বহু অনুসারি শিল্পও গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে নানা কারণে দুর্গাপুরের সেই শিল্প-অহঙ্কার বিনষ্ট হয়। বিশেষ করে কেন্দ্র-রাজ্যের বৈরিতার কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে। বহু দশক পর কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার। স্বাভাবিকভাবে শিল্প নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিল দুর্গাপুরবাসী। রাজ্য বাজেট সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ শুরু করল।
বৃহৎ আকারে সেমি কন্ডাক্টর দুর্গাপুরে তৈরি হলে মোবাইল এমনকী অটোমোবাইল অর্থাৎ গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হবে। ফের দক্ষিণবঙ্গে কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে পারে দুর্গাপুর। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ঠ আশাবাদী বণিক মহলও। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যদি দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে পাঁচ রাজ্য জুড়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর গড়ে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত হবে। তারপর সেমি কন্ডাক্টর হাব হয়ে গেলে দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হবে।
দুর্গাপুর স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রতন অগরওয়াল বলেন, ‘এবার বাজেট নিয়ে আমরা খুশি। শিল্পের বিকাশের জন্য সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়েছে।’ পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ‘শুধু দুর্গাপুর নয় পাণ্ডবেশ্বর, অণ্ডাল, পানাগড় সহ পুরো এলাকার সামগ্রিক বিকাশ হবে।’ কর্মপ্রার্থী রাহুল সিনহা, বিবেক পাল, রেখা চক্রবর্তীরা বলেন, ‘আমরা চাই স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের উপর প্রশাসন যেন বাড়তি নজর দেয়। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুরের মানুষ চাকরি পাওয়া থেকে বঞ্চিত। আমাদের শহরে ভিন রাজ্য, ভিন জেলার মানুষই বেশি চাকরি পেয়ে আসছেন। এবার যেন নিরপেক্ষভাবে যোগ্যদের নিয়োগ করা হয়।’