নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রাজ্যে পালাবদলের ৪৯দিনের মধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল করল বিজেপি। তাতে সমর্থন জোগালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা। সভাধিপতি হলেন বামদেব গুছাইত। সহকারী সভাধিপতি হলেন বাঁশরী পণ্ডিত। সোমবার বিজেপি নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে জেলা পরিষদে ক্ষমতা বদল হল। আতসবাজি পুড়িয়ে সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখলেন বিজেপি কর্মীরা। ২০২৩সালে পঞ্চায়েত ভোটের পর বোর্ড গঠনের তিন বছর বাদে ক্ষমতা হারাল তৃণমূল। সেইসঙ্গে ৭০আসনের জেলা পরিষদে নিজেদের মাত্র ১৪জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও বোর্ডের দখল নিল বিজেপি। এদিন সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডল এবং জেলা পরিষদের সেক্রেটারি ফৈয়াদ আহমেদ। সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার পর দু’জনেই এদিন দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে ৭০টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৫৬ এবং বিজেপি ১৪টি আসন দখল করেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচনে সাতজন বাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে, ইস্তফা দেওয়ার পর বিগত বোর্ডের সভাধিপতি উত্তম বারিক ও সহকারী সভাধিপতি সুহাষিনী কর এদিন আসেননি। এছাড়া, পুলিশের হাতে ধৃত শেখ সামসুল ইসলাম ও পুলিশের ভয়ে আত্মগোপান করে থাকা মানব পড়ুয়া ছাড়া বিগত বোর্ডের প্রত্যেক কর্মাধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হাত তুলে বিজেপির মনোনীত সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিকে সমর্থন জানান।
গত ৫জুন সভাধিপতি উত্তম ও সহকারী সভাধিপতি ইস্তফা দেন। তারপর ৮জুন তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা জেলা পরিষদে জোড়াফুলের নির্বাচিত সদস্যরা মিটিং করেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচনে বিজেপির মনোনীত প্রার্থকেই সমর্থন করবেন। দলের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হবে না। এদিন সকাল ১১টায় সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সভাধিপতি হিসেবে বামদেববাবুর নাম প্রস্তাব হয়। বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরাও হাত তুলে সমর্থন জানান। বামদেব জেলা পরিষদে বিরোধী দলনেতা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকও। সহকারী সভাধিপতি হলেন এগরা থেকে নির্বাচিত বাঁশরী পণ্ডিত। তিনিও বিজেপি এবং তৃণমূল দুই শিবিরের পূর্ণ সমর্থন পান।
সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনের পরই জেলা পরিষদ চত্বরে প্রচুর বাজি পোড়ানো হয়। বহু বিজেপি কর্মী এদিন জেলা পরিষদ চত্বরে হাজির হয়েছিলেন। আমন্ত্রিত ছাড়া সাধারণ কর্মীদের ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। জেলা পরিষদ ভবনের দু’দিকে ড্রপগেট বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বামদেববাবু বলেন, সকলের সমর্থন নিয়ে সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ায় আলাদা অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুসরণ করে রাতদিন এই জেলার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। যে কোনো দাবিদাওয়া জানানোর জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু হবে। সেখানে যেসব দাবি আসবে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে সমন্বয় তৈরি করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।