নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দু’দিন পেরিয়ে গেলেও কানাইপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা খুনের কোনও কিনারা হল না। পুলিস সূত্রে একাধিক দুষ্কৃতী ওই ঘটনায় যুক্ত থাকার ইঙ্গিত মিললেও, শুক্রবার রাত পর্যন্ত একজনকেও ধরা সম্ভব হয়নি। যদিও পুলিস কর্তারা জানিয়েছেন, অনেক সূত্র পাওয়া গিয়েছে। অপরাধীদের ধরা পড়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। পুলিসের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই কানাইপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য পিন্টু চক্রবর্তীকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার পরই অপরাধীরা ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে জলপথ ব্যবহার করে তারা পালিয়ে যেতে পারে। কারণ, হুগলি থেকে জলপথে ভিনজেলায় সহজে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। ওই পথে বিশেষ নজরদারি থাকে না।
তবে একটি বিষয়ে পুলিসের ধন্দ এখনও কাটেনি। তা হল, ঠিক কোন কারণে ওই তৃণমূল নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল। প্রাথমিকভাবে, প্রোমোটারি সংক্রান্ত বিবাদের একটি সূত্র মিললেও, অন্যান্য তথ্য নিয়েও তদন্তকারীরা ‘ছানবিন’ করছেন। ওই নেতার ব্যক্তিগত জীবনকেও তদন্তের বৃত্তে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দু’দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অপরাধীদের হদিশ মেলা বা খুনের কার্যকারণ স্পষ্ট না হওয়ায়, রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল ওই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকারকে বিঁধতে সচেষ্ট হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য নেতা দেবব্রত ঘোষ বলেন, বর্তমান সরকার পুলিসকে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক বানিয়েছে। তার জেরে পুলিসের তদন্তের দক্ষতা নষ্ট হয়েছে। খুন হওয়া ব্যক্তি একজন রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি হুগলি জেলার নাগরিক ছিলেন। একজন নাগরিকের প্রকাশ্য, নৃশংস খুনের কিনারা দু’দিনেও হচ্ছে না, তা খুবই আশ্চর্যের। যদিও পাল্টা সমালোচনা করেছেন হুগলি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র। তিনি বলেন, বাম আমলে রাজ্যজুড়ে কিনারা না হওয়া খুনের তালিকা দীর্ঘ। বিষয়টি সরকারি দক্ষতা বা তৎপরতার অভাব নয়। খুনের তদন্ত একটি ভিন্ন রকম বিষয়। সবকিছু নিয়েই রাজনীতি করা অবাঞ্ছিত। চন্দননগর কমিশনারেটের এক শীর্ষকর্তা বলেন, কোনও অপরাধী ধরা পড়েনি এটা সত্য। কিন্তু আমরা যে খুনের রহস্যভেদ করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছি, সেটাও সত্য।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে কানাইপুরের অটোস্ট্যান্ডের কাছে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন পিন্টুবাবু। তাঁকে খুন করে দুষ্কৃতীদের একজন প্রায় বুক ফুলিয়ে এলাকা দিয়ে হেঁটে পালিয়েছিল। সেই ঘটনার পরে এখনও কানাইপুর সংলগ্ন এলাকায় চাপা আতঙ্কের পরিবেশ আছে।