Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সাফ, সাইবার দুনিয়ায় নয়া আতঙ্ক ‘কল মার্জিং স্ক্যাম’

সাইবার দুনিয়ায় নয়া আতঙ্ক ‘কল মার্জিং স্ক্যাম’। এই পদ্ধতিতে প্রতারকদের ওটিপি জানানোর প্রয়োজন নেই।

মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্ট সাফ, সাইবার দুনিয়ায় নয়া আতঙ্ক ‘কল মার্জিং স্ক্যাম’
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সাইবার দুনিয়ায় নয়া আতঙ্ক ‘কল মার্জিং স্ক্যাম’। এই পদ্ধতিতে প্রতারকদের ওটিপি জানানোর প্রয়োজন নেই। তারা সহজেই অন্যের মোবাইল থেকে নিজেরা‌ই ওটিপি জেনে নিতে পারবে। তারপর মুহূর্তের মধ্যে তারা অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র পর কল মার্জিং স্ক্যাম নিয়ে আধিকারিকরা উদ্বিগ্ন। যে কেউ এই ফাঁদে পড়তে পারে। শিক্ষিত মানুষজন বোকা বনে যেতে পারেন। 

Advertisement

কীভাবে চলছে এই প্রতারণা? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা আগে আমজনতার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। এআই এক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় সহযোগী। তারা প্রথমে কাউকে বিশিষ্ট কারও নাম নিয়ে ফোন করে। ব্যক্তিগত তথ্য আগে থেকেই তারা সংগ্রহ করে রাখায় তার সম্পর্কে ফোন করা ব্যক্তি দু’-একটি কথা শোনায়। তাতে তার বিশ্বাস অর্জন করতে প্রতারকরা সক্ষম হয়। কোনও কাজের অছিলায় তারা ফোন করে। কথা বলার সময়ই প্রতারক ওই ব্যক্তিকে বলে, আপনার পরিচিত ফোন করবে এখনই। মুহূর্তেই একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। সেইসময় প্রতারক ফোনটিকে কনফারেন্সে নিতে বলে। সরল বিশ্বাসে কেউ সেই ফোন কনফারেন্সে নিলেই সর্বনাশ হতে পারে। অচেনা নম্বরটিকে কনফারেন্সে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি ওটিপি শোনা যায়। এখানেই লুকিয়ে রয়েছে এআই এর ক্যারিশমা। সাইবার প্রতারক ওই ব্যক্তির সঙ্গে কনফারেন্সে থাকায় সহজে সে ওটিপি জেনে নিতে পারে। কিছুক্ষণের মধ্যে সে ফোন কেটে দেয়। তার কিছুক্ষণ পরই দেখা যায় অ্যাকাউন্ট সাফ হয়ে যাচ্ছে। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এরাজ্যে এখনও পর্যন্ত এধরনের অপরাধ লিপিবদ্ধ হয়নি। তবে বিভিন্ন রাজ্যে এই কায়দায় অ্যাকাউন্ট সাফ হয়েছে। সেই কারণেই গাইডলাইন মেনে প্রতিটি রাজ্যের পুলিসকে এই অপরাধ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে। আর এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে যে কারও গলা নকল করা সম্ভব। সেই কারণে অচেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করে কোনও তথ্য চাইলে তা দেওয়া উচিত নয়। অপরিচিত নম্বর কখনও কনফারেন্সেও নেওয়া যাবে না। সম্প্রতি ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে পুলিস আধিকারিকদের ঘুম উড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেন্দ্রীয় সরকারকেও বিষয়টি নিয়ে লাগাতার প্রচার করতে হচ্ছে। তারপরও অনেকেই অপরাধীদের জালে জড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাইবার অপরাধীরা প্রতরণার কৌশল বদল করায় পুলিসের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গিয়েছে। তাদের দাবি, সাইবার অপরাধীরা আটঘাট বেঁধে কল মার্জিং স্ক্যাম করছে। তারা আগে জেনে নিচ্ছে কোন ব্যক্তির সঙ্গে কার কেমন সম্পর্ক রয়েছে। সেই তথ্য তারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই পাচ্ছে। কোনও আধিকারিক বা বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা তাদের নজরে রয়েছে। তাদের নাম করেই তারা বিভিন্নজনকে ফোন করে ফায়দা তুলছে।

সম্পর্কিত সংবাদ