ঢাকা: বাংলাদেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর ইনোভেশন কনসাল্টিং নামে একটি সংস্থা সম্প্রতি ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’ (পেপস) নামে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। তাতেই দেখা যাচ্ছে, পদ্মাপারে বিএনপির জনসমর্থন ক্রমশ বাড়ছে। এর আগেও ওই সংস্থা দু’বার জনমত সমীক্ষা করেছিল। সেই সময় যারা জামাত বা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন করছিল, তাদেরও একটি অংশ এখন বিএনপিকে সমর্থন করছে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগকে সাধারণ নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। লিগের সমর্থকদের বড়ো অংশও বিএনপিকে ভোট দেবে বলে সমীক্ষায় জানানো হয়েছে।
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার গ্রাম ও শহরে প্রায় ৬ হাজার মানুষের মধ্যে জনমত সমীক্ষা চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় সমর্থনের মতো একাধিক বিষয়ে ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন তারেকই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। সাড়ে ২২ শতাংশ মানুষ মনে করে, জামাতের প্রধান শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিন শতাংশেরও কম ভোটারের মতে, ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন। ২২ শতাংশ মানুষ কারও পক্ষেই মত দেয়নি। পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডে বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছিল ৪০ শতাংশ মানুষ। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর ভোটারদের বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়ার হার বেড়েছে।
আওয়ামি লিগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনেকদিন ধরেই জল্পনা চলছে। এই ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সমীক্ষা অনুযায়ী, আওয়ামি লিগ সমর্থকদের ৩২.৯ শতাংশ ভোট বিএনপির দিকে যেতে পারে। ১৩ শতাংশের মতো ভোটার জামাতকে ভোট দিতে পারে। আর প্রায় ৪২ শতাংশ ভোটার এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের দল এনসিপি নির্বাচনে কেমন ফল করে, তার দিকে নজর রয়েছে অনেকের। তবে, জামাতের সঙ্গে জোটের পর থেকেই দলটির অন্দরে টালমাটাল পরিস্থিতি। বহু শীর্ষ নেতা-নেত্রী ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন। সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, আগের রাউন্ডে যারা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিল, তারা এখন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছে।
সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই বাংলাদেশে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছে। ২২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, গণভোটের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।