নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের বেপরোয়া লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল দু’জনের। ঠিক একমাস আগেই বিমানবন্দরের ৩ নম্বর গেটের কাছে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে লরির ধাক্কায় মারা গিয়েছিলেন একই পরিবারের তিনজন। রবিবার রাতে ফের বিমানবন্দরের মাইকেলনগর এলাকায় বাসের পিছনে একটি বেপরোয়া লরি এসে ধাক্কা মারলে দু’জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জেরে সোমবার জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিধাননগর পুলিস। নিরাপত্তার বিষয়ে কোথায়, কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তার প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হয়েছে। উচ্চতর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলেই তা কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে মাইকেলনগর এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, রবিবার রাতে মাইকেলনগরের দুর্ঘটনায় মৃতদের নাম কাকলি শর্মা দেবনাথ (৫২) এবং সন্তোষকুমার শীল (৭২)। সাঁতরাগাছি-বারাসত রুটের ওই বাসটি তখন বারাসতে ফিরছিল। মাইকেলনগরে বাসটি দাঁড়াতেই পিছনে থাকা একটি বেপরোয়া লরি সজোরে এসে ধাক্কা মারে। তার জেরে বাসটি বেশ কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। সেই সময় বাসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন পিষে যান।
সন্তোষবাবুর বাড়ি মধ্যমগ্রামে। মাইকেলনগরে তাঁর সেলুন রয়েছে। তিনি বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তায় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কাকলিদেবী নিউটাউনের কর্মস্থল থেকে নিউ বারাকপুরে বাড়িতে ফেরার জন্য ওই বাসস্টপে নেমেছিলেন। স্থানীয়রা পুলিসকে জানিয়েছেন, কাকলিদেবী ওই বাস থেকে নেমে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সন্তোষবাবুও ওই বাসটি ধরার জন্য আসছিলেন। এটা ঠিক যে, বাসটি বাঁদিক ঘেঁষে দাঁড়ায়নি। বরং ডানদিকে চেপেই দাঁড়িয়েছিল। পুলিস লরির চালক ও বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয়দের কথায়, রবিবার রাতের রাস্তায় যানবাহন কম থাকে বলে বহু লরি, গাড়ি বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে। বিধাননগরের ডিসি ট্রাফিক নিমা নরবু ভুটিয়া বলেন, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে আমরা যৌথ পরিদর্শন করেছি। নিরাপত্তার জন্য কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অনুমোদনের পর সেগুলি কার্যকর করা হবে।