মিলান: গায়ে লেপটে আদরের আজ্জুরি। ঘন নীল। তবে খেলায় রোম্যান্সের লেশমাত্র নেই। পা ঝনঝনানো কড়া ট্যাকল, নিখুঁত অনুমানক্ষমতায় তাবড় স্ট্রাইকারও সমীহ করতেন তাঁকে। জীবনের ময়দান থেকে এবার না ফেরার ড্রেসিং-রুমে পাড়ি দিলেন ফ্র্যাঙ্কো বারেসি (৬৬)। ইতালির প্রাক্তন অধিনায়কের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব। ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। টিউমার ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। এর আগেও বারেসির মৃত্যু নিয়ে গুজব ডালপালা মেলেছিল। তবে শুক্রবার সব আশঙ্কাই সত্যি হল। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছে ফিফা। জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথাউসও সোস্যাল সাইটে শোকজ্ঞাপন করেছেন।
কাতানেচ্চিও রক্ষণে স্তম্ভ ছিলেন বারেসি। পশ্চিম জার্মানির ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ারের পর তিনিই সেরা সুইপার। ১৯৮২’র বিশ্বকাপজয়ী ইতালির স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। আট বছর পর বিশ্বকাপের আসর বসে ইতালিতেই। সেবার ঘরের মাঠে তৃতীয় স্থান অর্জন করে তারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন বারেসি। ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে টাই-ব্রেকারে কিক নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন অধিনায়ক। তবে বল বাইরে যায়। হতাশায় হাঁটু মুড়ে মাঠেই বসে পড়েছিলেন বারেসি। বিদায়বেলায় ট্র্যাজিক হিরো হয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। ৮১ টি ম্যাচে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইতালির অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।
ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানই বারেসির রাজপ্রাসাদ। ম্যারাথন দু’দশকে (১৯৭৭-১৯৯৭) ক্লাব বদলাননি। এসি মিলানের হয়ে ৫৩২ টি ম্যাচ খেলার পর বুটজোড়া তুলে রেখেছিলেন। ক্লাবের হয়ে ১৬ টি গোলও রয়েছে তাঁর। ছ’বার সিরি এ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উপহার দেন মিলানকে।